উই আর স্টিল ডেভেলপিং…

মাহেন্দ্রক্ষণ। মানে এ লেখা যখন লিখতে বসছি, ততক্ষণে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তির উন্মোচনের পর কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যে উচ্চতা, বেড়, দৈর্ঘ্য, বানানোর উপকরণ, মোট খরচ, কত সময় লেগেছে ইত্যাদির ‘ভাইট্যাল’ স্ট্যাটিস্টিক্স মিডিয়ার কল্যাণে সকলেরই জানা হয়ে গিয়েছে। আপাতত শুধু খরচটাই প্রাসঙ্গিকতার দাবী রাখে। সূক্ষ হিসাব বলছে দু’হাজার নশো ঊননব্বই কোটি টাকা, রাউন্ড ফিগারে যদি ধরি, তিন হাজার কোটি টাকা। এই টাকায় আরও কী কী হতে পারত, কটা আইআইটি বা কটা সেচ প্রকল্প সবেরই তুল্যমূল্য হিসাব তৈরি হয়ে গেছে বিশেষজ্ঞদের সৌজন্যে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার দেখিয়েছেন, এমন একটি মূর্তি তৈরি হলে ট্যুরিজমে…

Read More

গল্পের বাড়ি

এ বাড়ির গল্প আমাকে লিখতে হতই। আজ না হোক কাল। যদিও গল্পের আসল লেখক আমি নই। আমার ঠাকুরদা বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। আর এগুলো আসলে গল্পও নয়। সত্যি ঘটনা। কিন্তু কে না জানে সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসতে আসতে যে কোনও সত্যির গায়েই গল্পের মুচমুচে সোনালি রং এসে লাগে। খুব ছোটবেলা থেকেই গল্পগুলো আমাকে বলত দাদু। মানে যখনই আমাকে পেত। গরমের ছুটি, পুজোর ছুটিতে আমি আমাদের মছলন্দপুরের পুরোনো বাড়িতে যেতাম। কবেকার এক জীর্ণ বাড়ি। মস্ত মস্ত অনেকগুলো ঘর, প্রশস্ত রোয়াক, উঠোন। বাড়ির থেকে দূরে কুয়োতলা। আসলে কুয়ো নয়, ইঁদারা। পরিত্যক্ত গোয়ালঘর। পিছনদিকে…

Read More

খুরশেদ মিয়াঁর পরলোক যাত্রা

না ঘুমোলেই হত। এখন মরে গিয়ে মনে হচ্ছে, না ঘুমোলেই হত। জেগে থাকলে টের পাওয়া যেত, হয়তো, মরছি। তাতের লাভের লাভ এই হত যে, হ্যাঁ, এটা তো ঠিক যে গোছগাছের তো কিছু থাকে না; কিন্তু ওই, ঘুমনোর আগে পাখাটা চালিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময়ে ঝুনুবউকে একটু ডেকে বসানো যেত। যদি এরকমটা হত, তাহলে খুরশেদ ঘুমের মধ্যে নয়, ঝুনুবউকে দেখতে দেখতেই মরত। কী এমন হত আর একটা বেলা না ঘুমোলে। না ঘুমোলেই হত। এখন মরে যাওয়ার পর, ঝুনুবউকে ভাবলে, মনে হচ্ছে, অনিডা কিংবা সন্তোষের শাদা-কালো পোর্টেবল টিভিতে দেখা ছেলেবেলার রোদ যেন। দেখছি…

Read More

সুন্দরী, ফ্ল্যাটবাড়ি ও ফিলগুড গল্প

তুমি যে শুধু নিজে অসুখী তা-ই নয়, বাকিদেরকেও সুখে থাকতে দিচ্ছ না পার্থ- কেটে কেটে কথাগুলো বলছিল মৌরিফুল। এটিই তার সঠিক নাম কি না তা কেউ জানে না। কেউ কোনোদিন তার আধার কার্ড দেখেনি বা দেখতেও চায়নি। নাম হিসেবে সে এটাই বলে। এবং মৌরিফুল পদবী ব্যবহার করে না। তার কথা শুনে এই ‘কোপাই’ ফ্ল্যাটবাড়ির যারা জড়ো হয়েছিল, সকলেই মুখ নামিয়ে নিল। পার্থ শুধু মুখ তুলে তাকাল। মৌরিফুল সুন্দরী। টানা টানা উচ্চাকাঙ্ক্ষী চোখ, গৌরবর্ণা, উন্নতনাসার যে সুন্দরীদের একবার দেখে চাইলেও চোখ ফেরানো যায় না, সেরকমই সুন্দরী সে। তীব্র যৌবনবতী, তবে মাপমাপ,…

Read More

হস্তমৈথুনের মুহূর্তে এরকম ঘটে থাকে

–সেক্স লাইফ ? –নেই । অলমোস্ট নেই…ইন্টারকোর্স করি…খুব অনিয়মিত… –নেই মানে ! উইদাউট সেক্স সারভাইভ করছেন ? কতো বছর ? –কে বলল উইদাউট সেক্স ? মাস্টারবেট করি । রেগুলার… –বাট হোয়াই ডোন্ট য়্যু ট্রাই টু ফাইন্ড আ সেক্স পার্টনার ? –কে বলল পার্টনার জরুরি ? আর আমার পার্টনাররা ছেড়ে চলে গেছে আমায়… –বুঝলাম । শেষ কবে কারো সঙ্গে ফিজিক্যালি মিট করেছিলেন ? –ছ’মাস আগে । জোকার রিসর্টে… –বেশ । কিন্তু কেন ছেড়ে গেল তারা ? –আই নিড পারভারশনস । আই ডেসপারেটলি নিড ইট । –হোয়াট কাইন্ড অফ পারভারশন ? –আই…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ১

লেখকের সূচনাকথাঃ শোনা যায় পীর মৈমনশাহর নামেই মৈমনসিংহ। অবিভক্ত বাংলার সব চেয়ে বড় জেলা ছিল মৈমনসিংহ। পূর্ববঙ্গ গীতিকার সিংহভাগ রচিত হয়েছিল এই জেলায়। গীতিকার কাহিনি আমাকে মুগ্ধ করেছিল বহুদিন। প্রেম আর বিরহই কাহিনিগুলির মূল সুর। ্তার ভিতরে লুকিয়ে আছে চলমান জীবন এবং সামাজিক চিত্র। মহুয়া, মলুয়া, কমলা, কাজলরেখা, কঙ্ক ও লীলা, আয়না বিবি……কত যে অপরূপ কাহিনিমালা। ময়মনসিংহ বা মৈমনসিংহ গীতিকা এপারের রঙ্গমঞ্চে এসেছে কয়েকটি। সেই সব নাটক গীতিকার অংশ বিশেষ। কিন্তু গীতিকার বাইরে যায়নি। সুরটি ধরেছে। গীতিকার ভিতরে চলিষ্ণু বঙ্গ দেশের রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম সেই গীতিকার…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ৬

লেখা ও লেখক আসলে আমরা সারাজীবন ধরেই হয়ত এক একটা দিবাস্বপ্নের মধ্যে কাটাই। নিজেদের মনের মধ্যেই স্বীকার করতে পারি না বাস্তবতাকে। কারণ বাস্তবতার সংজ্ঞা বড়ই ক্ষণস্থায়ীত্বের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমরা কার্যকারণ সূত্রে না বাঁধলে অস্বস্তিতে পড়ে যাব নিজেরাই। ফলে একসাথে আমাদের মনে হয় অনেকগুলো জীবন চলতে থাকে। এই অনেক জীবনের মধ্যে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি। ওই যে স্বীকৃতির কথা, ভালোবাসার কথা, – এসব তো সামাজিক লেবেল। যতই আপনি মহান কবি হোন না কেন, এই সামাজিক লেবেলের ভূত আর তার সঙ্গে ক্ষমতার কৌশলের ক্লেদ আপনাকে তাড়া করবেই। এগুলি মনকে আরও তিক্ত,…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ৫

সমর্পণ নিজেকে কারো কাছে এবং কোনও কিছুর কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দেওয়া খুব কঠিন কাজ। সমর্পণ করে দিলেই তো আর হল না, মনে মনে বিশ্বাস রাখতে হবে, নিজেকে বারবার বলতে হবে, যে আমি সমর্পিত। কিন্তু এই সমর্পণের অর্থ কী? আত্মবিলুপ্তি? আত্মলীন হয়ে যাওয়া? কবিতা লেখার সময়ে তো ঠিক এই কাজটিই ঘটে। কারণ কবিতা তো নিজেকে লেখার জন্য কবির মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়। কবি কেবল একজন আধার মাত্র। আর কিছু নয়। যখন অপ্রত্যাশিত স্পর্শের মতো, কবিতা আসে সেই কবির কাছে, তখন সে আত্মসমর্পণ-ই করে। লেখা হয়ে যাওয়ার পরে হয়ত, তার ‘আমি’…

Read More

কারুকর্মীর নিরন্ধ্র বলয়

১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে আঠারো বছর বয়সে দস্তয়েভস্কি তাঁর ভাইকে লিখেছিলেন: “Man is a mystery: if you spend your entire life trying to puzzle it out,then do not say that you have wasted your time. I occupy myself with this mystery, because I want to be a man.” সেই কারণে তাঁকে অনেকেই মনস্তত্ত্বিক কথাকার বললেও তিনি নিজেকে রিয়েলেস্টিক বলতে চেয়েছেন। তাই বলে কি তাঁর লেখায় মনস্তাত্ত্বিক উপাদান নেই? ঠিক এই কথা লেখবার তিরানব্বই বছর পরে অপমানে ক্ষরিত হতে হতে এক মৃত্যুর যাযাবর লিখে রাখছিলেন তাঁর গোপন খাতায় একটি উপন্যাসের অবয়ব। মানুষ দেখেছেন…

Read More

টু স্যার, উইথ লাভ

রেস্পেক্টেড স্যার,           চিঠির তো একটা সাব্জেক্ট হয়? পড়িয়েছিলেন তো? কী লিখব? পিছু ফেরা? হিসেব নিকেশ? না স্যার, ওটা ব্ল্যাঙ্ক থাকুক। ফিল ইন দ্য ব্ল্যাঙ্কস। ওপারে গিয়ে দেখা টেখা হবে স্যার? সেসব হয় নাকি? আমি তো মেট্রোর দরজাটা জানি। একবার বন্ধ হয়ে চলতে শুরু করলে তার দরজা অন্তত সেই স্টেশনে আর থামবে না। তাই … হাত তুলতাম। একটা, অনেকগুলো। রেড ফ্ল্যাগ ধরা ছবিগুলোর মতো। আপনি পড়া ধরতেন। পড়া মানে ইতিহাস। ইতিহাস মানে ম্যানচেস্টারের সুতো, শিল্প বিপ্লব কিংবা চটকল ধর্মঘট। অবনী স্যার। অবনী। আধেকলীন হৃদয়ে আমি পড়াশুনোর কাছাকাছি কিছু একটা ঘাঁটি অবসরে।…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ৪

ভোগ ও ত্যাগ কাঁপতে কাঁপতে যখন হাজির হলাম ক্যাম্পের মধ্যে, আমার তখন শরীরের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। একে, টানা ১৪ কিলোমিটার চড়াই অতিক্রম করে এসেছি। ৬০০০ ফুট থেকে টানা ১৬০০০ ফুটে। তার উপর টানা বৃষ্টি। ভিজে গেছি। খাইনি। আর ঠিক তখন জলদগম্ভীর গলা- ‘এখানেও এসে গেছেন?’ চেয়ে দেখি, চেনা মুখ। ‘কী অবস্থা!’ সঙ্গে সঙ্গে কিছু ওষুধ আর গরম চা। বসলাম এক জায়গায়। জামাকাপড় পাল্টালাম। হেমকুণ্ড সাহিবে গেলেই আপনি পাবেন গরম গরম খিচুড়ি। সেই খিচুড়ি খেয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে ভালো করে চারিদিকে তাকালাম। আমি একটা স্বতন্ত্র ক্যাম্পে শুয়ে আছি। চারিদিকে অক্সিজেন…

Read More

বাক্যকাব্য

কাছের মানুষের মৃত্যুতে জীবন ক্রমশ দূরতিক্রম্য হয়ে ওঠে। যতক্ষণ না সম্পূর্ণভাবে অনতিক্রম্য হয়ে পড়ছে। চোখের সামনে অনেকগুলো পর্দা তৈরী হয় দূরত্বের। কতোকিছুতে আর ফিরে যাওয়া যায় না। যাবে না। অনেকদিন পর ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদে উঠেছে সঞ্জয় । চলে যাবার আগে শেষবার। সন্ধ্যার পড়ন্ত আলোয় ছোটবেলার বদলে যাওয়া শহরতলি। আজকাল আর এবাড়িতে থাকা হয় কই? কর্মসূত্রে রাজ্যছাড়া। রাজ্য? রাজ্য তো রাজার হয়! সঞ্জয় তো নিতান্ত প্রজা! প্রায় দশ বছর আগে লেখা একটা গল্পের লাইন মনে পড়ে যায় ওর: ‘এতোটা ওপরে থাকলে কেমন রাজা রাজা ভাব হয়।‘ ঐ ভাবই বটে! আজ এক দশকের…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ৩

অভিজ্ঞতাগুলি ক্রমে… শুকনো পাতার স্তূপ্ বললেই মনে পড়ে যায় গ্রীসিয়ান আর্নের কথা। একটি অসামান্য জায়গা ছিল- হার্ড মেলোডিজ আর সুইট, বাট দোজ আনহার্ড আর সুইটার। আমার এক মাস্টারমশাই ছিলেন, পিএম বলে ডাকতাম। পুরো নাম পার্থ মুখোপাধ্যায়। একবার পড়ানো হয়ে গেছে। বসে আছি তাঁর সল্ট লেকের বাড়ির ছাদে। পাশে ঘুরঘুর করছে তাঁর দুই সন্ন্যাসী কুকুর। তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন- জানো, এই লাইনটা, বোল্ড লাভারস ক্যান্সট নেভার নেভার দাউ কিস- এই ব্যাপারটাকে ঠিক কিছু দিয়েই ধরা যায় না। আমরা বৃথাই এসব পড়ি। পড়াই। কিন্তু যা বাজে অন্তরে তা মনে হয় আরও বেশি…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ২

অপ্রত্যাশিতের এই স্পর্শ পাওয়ার জন্য জগতের কাছে সবসময় হাত পেতে বসে থাকতে যে হয়, সেটিই আসল সত্য। মানে, অপেক্ষাই আসলে প্রধান। মিলন নয়। ধরা যাক দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে, তারা একে অপরের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত তাদের অপেক্ষা আর ফুরোচ্ছে না। এই না ফুরোনো অপেক্ষাই হল প্রেম। মিলন তো ক্ষণিকের। অপেক্ষাই চিরকালীন। এ প্রসঙ্গে একটি দৃশ্য ও একটি গল্প মনে পড়ছে। আমি বসে আছি দেউরিয়া তালে। সারা রাত ধরে অপেক্ষা করেছি দেউরিয়া তালের ধারে একটি তাঁবুতে। সূর্য উঠবে। পাহাড়ে সূর্যোদয়ের উলটো ছায়া পড়বে দেউরিয়া তালের জলে। দেখব।…

Read More

বিপন্ন বিস্ময়গুলি – পর্ব ১

আমি নিজেকে সবসময় উপলক্ষ্য ভাবি। এই যে কবিতা লিখি, আদৌ আমি কি লিখি? না কি আমি কেবলমাত্র লেখার আধার হয়ে থাকি? ঈশ্বরের কথা জানি না। প্রকৃতির কথা কিছুটা জানি। দর্শন হোক বা বিজ্ঞান, সঙ্গীত হোক বা কবিতা- কোনওকিছুই আমরা নতুন করে তৈরি করছি না, ইংরিজিতে ইনভেন্ট যাকে বলে, যা করছি, তা হল  ডিসকভারি, মানে খুঁজে পাচ্ছি। খুঁজে পাচ্ছি, তার কারণ, আমাদের মধ্যে কেউ না কেউ কোনও না কোনও ভাবে খুঁজে চলেছে। প্রশ্নটা হল, কী খুঁজে চলেছে এবং কাকে খুঁজে চলেছে। আমাদের সমস্ত অসীমেরও ধারণার অতীত এই মহাবিশ্বে নিজস্ব সীমার মধ্যেও…

Read More

একটি অদ্ভুত গল্প

গত সোমবার আমার জীবনে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিলো। আজকেও সোমবার। এক সপ্তাহ হয়ে গেলো। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছি না ঠিক এক সপ্তাহ আগে ঠিক কী হয়েছিলো। এমন সময় আমার এক পুরনো বদভ্যাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমি একটার পর একটা পুরনো অপমানের কথা মনে করতে থাকি, যাতে আমার মন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী হয়, মনকে আরাম দিতে আমার অন্য মস্তিষ্ক সচল হয়ে ওঠে। তখন স্মৃতি খুঁজে খুঁজে বের করে আনে এমন সব অদ্ভুত আলোঅন্ধকারস্মৃতি, যার ফলে আমার মন অন্য দিকে ঘুরে যায়, অন্য রাস্তায় হাঁটতে থাকে আমার ভাবনাগুলো,…

Read More

লিন্টেল তাক ও বাঙ্গালির কোক-শাস্ত্র

এক নম্বরঃ গাছের সঙ্গে দূরে যাবার গল্প বলার সময় ভারি শরীরের নারীদের দাঁতে দাঁত লেগে তারা ফিট পড়ে আর বালিকাদের পিঠে ধড়ফড় করতে থাকে ডানা । এই টুকু মনে রাখলেই চলবে । ওহ হ্যাঁ আর দু নম্বর হলঃ তিনটে কাঠবেড়ালির মধ্যে একজন থাকবেই যে কিনা অসাধারণ সাহসী আর কৌতূহলী । একটু বেশীই ।   ‘৭০ সাল নাগাদ কোলকাতার পাকা বাড়িগুলোর লিন্টেল বরাবর ঘরের ভেতর বাগে যে বাঙ্কের মত তাকগুলো বানানো হত, আর তাতে তুলে রাখা হত শীতকালীন ওম-শোম, ঠাকুরের নকুলদানার কাচের হরলিক্স শিশি, আর কিছু চেতন-অচেতন বিস্কুট ও মোয়াপাতি , সেই…

Read More

এক জানলা, একেক বিভুঁই : পর্ব-২

নেকড়ে মায়ের খোঁজ বিশ শতকের বিশ দশক। ব্রিটিশ ভারতের বিভক্ত তবু একদেশী বাংলা। জেলা মেদিনীপুর। গ্রামের নাম গোদামুরি। কাছেই এক খৃষ্টিয় অনাথ আশ্রম। তার অধ্যক্ষ রেভারেন্ড যোসেফ অমৃতলাল সিং। রেভারেন্ডের কাছে গ্রামের মানুষ প্রায়ই এসে একটা গল্প বলে। ভূতের গল্প। দুটো সাদা ভূত নাকি মাঝে মাঝে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় এক পাল নেকড়ের সাথে। তারা মানুষভূত না পশুভূত বলা মুশকিল। কেউ কেউ রীতিমতো ভয়ার্ত। কিন্তু কেউই স্পষ্ট বর্ণনা করতে পারেনা সেই ভূতেদের। অশিক্ষিত ভয় নির্জ্ঞানকে কানাঘুষোয় ফুলিয়ে বিশালাকৃতি করে তোলে। একদিন রেভারেন্ড সেই ভূতেদের দেখতে পেলেন। দুই মানবশিশু। দুটি মেয়ে। মেয়ে?…

Read More

রামমোহনঃ আধুনিকের লড়াই

প্রায় দুশো বছর আগে ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কয়েকপৃষ্ঠার একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা ‘সহমরণ বিষয় প্রবর্ত্তক নিবর্ত্তক সম্বাদ’। (এরপর থেকে ‘প্রথম সম্বাদ’ বলে উল্লেখিত)। রচয়িতা রামমোহন রায়। শিক্ষিত বাঙালি সমাজ নারীজাতির অধিকার নিয়ে তখনও উচ্চকিত হয়ে ওঠে নি। সমাজে তখনও বহমান বিধবা নারীকে পুড়িয়ে মারার  শাস্ত্রসম্মত সেই নারকীয় প্রথা –সতীদাহ। ক্ষুদ্র এই পুস্তিকায় রামমোহন রায় স্ত্রীজাতির সবচেয়ে বড় অধিকার নিয়ে লড়াই করেছেন – তা হল বেঁচে থাকার অধিকার। সহমরণ ও অনুমরণ প্রথার নারকীয়তা নিয়ে বর্তমানে কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু আধুনিকতার সেই ঊষালগ্নে প্রয়োজন ছিল বুঝিয়ে বলার। প্রয়োজন ছিল স্ত্রীজাতির…

Read More

কবিতাযাপনঃ ‘এবার আপনারা যে যার মতো বন্দুক তুলতে পারেন…’

শান্তিনিকেতন আর বোলপুর লাগোয়া তবে দুয়ের মধ্যে ধাতুগত পার্থক্য আছে । শান্তিনিকেতন অভিজাত, আন্তর্জাতিক । বোলপুর নয় । ট্রেন বোলপুর স্টেশনে থামে, তারপর বোলপুরকে পেছনে ফেলে শান্তিনিকেতনের দিকে চলে যাওয়া । তবু বোলপুরে শান্তিনিকেতনের হাওয়া পাক খায় – বিষাদের, সংস্কৃতির, কবিতার । শান্তিনিকেতনের সঙ্গে সাবেকি সংযোগ থাকলে যতটা আলো পাওয়া যায় বোলপুর থেকে উঠে আসা বিষাদ ততটা আলো সবসময় পায় না । বোলপুরকে খুঁজতে হয় তার আত্মপরিচয় – শান্তিনিকেতনকে ছুঁয়ে থাকে, তবে জানে বোলপুর শান্তিনিকেতন নয় । স্টেশনে অবশ্য লেখা থাকে বোলপুর(শান্তিনিকেতন),সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠায় শান্তিনিকেতন   শান্তিনিকেতনই । ছেলেটি বোলপুরের – বিষাদের,…

Read More