আমেরিকা: এক হিমায়িত চিৎকার-২

  নববারোক দল সেই স্বেচ্ছাচারী যে মায়ের থেকে পালায়। বিদায় নেওয়া মানে এক শিশিরবিন্দু চাষ করা যাতে সে লালার ধর্মনিরপেক্ষতায় মিশে যায়। স্বেচ্ছাচারের গভীরতা কখনই তার ফল হরণের পথে যায় না। স্বেচ্ছাচারী তার মাকে দেখা বন্ধ করে। সেই দীর্ঘায়িত হয়ে চলা ঘটমান দিনের অনুপস্থিতি এবং রাত্রিবেলা সেই অনুপস্থিতি ক্রমশ ছুরির মত গভীর হয়ে ওঠে। আর সেই অনুপস্থিতিতে খুলে যায় এক মিনার, সেই মিনারের মধ্যে নাচে এক ফাঁপা আগুন। আর এভাবেই সে নিজেকে পুষ্ট করে, আর মায়ের অনুপস্থিতি এক শান্তিতে থাকা সমুদ্র। কিন্তু সে পলায়নপর দেখেনা সেই প্রশ্নকর্তা ছুরিটিকে, সে ছুরি…

Read More

আমেরিকা, একটি হিমায়িত চিৎকার – ১

হোসে লেসামা লিমা প্রথমে একটা কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার, আমাদের দেশে বা অন্যান্য প্রাক্তন ইংরেজ উপনিবেশে সাতটা মহাদেশের মডেল পড়ানো হয়, আমাদের কাছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা দুটি আলাদা মহাদেশ। কিন্তু বাকি প্রাক্তন উপনিবেশে আমেরিকা একটিই মহাদেশ। আমি যেহেতু অইংরেজি আমেরিকার কথাই বলব আপাতত, তাই আমেরিকাকে একটি মহাদেশ হিসেবেই ধরব এমন এক অঞ্চলে ঢুকে পড়া গেল, যার থেকে বেরনোর রাস্তা আজ অব্দি ইতিহাস জানে না। এসে পড়বে ঔপনিবেশিক প্রশ্ন ও উত্তরহীনতা। এসে পড়বে থিওডর আডরনোর সেই বিখ্যাত আউশউইতশ এর পরে কবিতা লেখা যায় না মার্কা দার্শনিক হাই তোলা, যেন কোনওদিন…

Read More

স্বাধীনতার চরাচর : ওক্তাবিও পাস

কবির ভূমিকা, কবির সামাজিকতা ও কবিতার সমান্তরাল চলন, এইসব প্রশ্ন হয়ত আমাদের সকলকেই, মানে যারা কবিতায় সম্পৃক্ত তাদের বিব্রত করেছে বা রেখেছে। আমরা যদি আমাদের প্রথম কবিতা জগতে আসার সময়টা মনে করি দেখব শুধু কয়েকটা নামকেই আমরা কবি হিসেবে চিহ্নিত করতাম আর সেই সব নামেদের একটা সামাজিক ভূমিকা ও বক্তব্য ছিল। কিন্তু কবিতা জগৎ যে বস্তুত বহুত্বময়, বস্তুত এক সমান্তরাল দুনিয়া, খানিকটা আন্ডারওয়ার্ল্ডই বলা যায়, তা আমাদের দৃষ্টিপথের বাইরে থাকে। এবং সেইসব কবিদের সামাজিক ভূমিকা একেবারেই গুরুত্ব রাখে না বৃহত্তর মানসে কারণ সেই কবির নাম খবরের কাগজে নেই। এইবার আরও…

Read More

প্রকৃত বহুরৈখিক ভাষা চরাচরঃ শূন্য দশক

২১ শতকের প্রথম দশক বা ২১ঃ ০ বা শূন্য দশক নিয়ে এই উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষত বাংলা ভাষার নিরিখে ভাবতে বসলে প্রথম যে কথাটা মনে আসে সেটা হল তার পূর্বশর্তহীনতা। এই সেই দশক যে তার দু একটি মিসিং লিঙ্ক ছাড়া তার ভাষাকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র করে নিয়েছে। এই সেই দশক যেখানে বাংলাভাষা তার বিভাজিত ভূখণ্ডে সামগ্রিকভাবে দুটি ভাষার প্রবর্তন ঘটিয়েছে। এই পরিবর্তনের সামাজিক ও ঐতিহাসিক উপাদান হয়ত সমাজতাত্ত্বিকের কাজ। কিন্তু কবিতার পরিবর্তনগুলোকে দেখা আমাদের কাজের এক্তিয়ার।  প্রেক্ষিত  নব্বই দশকের বাংলা কবিতার যে প্রধান বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ ছান্দিক কাঠামোর মধ্যে থেকে বিষয় ভিত্তিক কবিতা…

Read More

এক চাঁদের চাকার দাগ

১ শুরু বলা যেতে পারত ১৯৯৮ সাল, যখন জমিল সৈয়দের হাত ধরে আমি প্রথমবার মণীন্দ্র গুপ্তের লেখা পড়ি। কিন্তু সে ভাব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০ বছরের আমি অচিরেই মজে যাই তাঁর চেয়ে বেশি চমক জাগানো অন্য কবিদের লেখায়। এই ঘটনার ১০ বছর পর ২০০৮ সালে নানা কবিতার মধ্যে দিয়ে যেতে গিয়ে বাংলা কবিতার স্বভাব প্রবণতা তার সুন্দর ও স্মৃতিধার্য লাইনে খানিকটা বিরক্ত হয়ে ফের ঢুকে যাই মণীন্দ্র গুপ্তে। ততদিনে উনি মণিদা হয়ে গেছেন আমার কাছে। আমি শিখতে শুরু করেছি কীভাবে স্তবক থেকে স্তবকে নিয়ে যেতে হয় কবিতার স্তরবিন্যাস। কীকরে…

Read More