নিউটন-৩

কেমব্রিজে নিউটন  (১৬৬১-১৬৬৫)  সতের শতকের কেমব্রিজ। হাজার পাঁচেক লোকের এক বসতি। কেমব্রিজের আয়তনের নিরিখে সংখ্যাটি কিছুই নয়। শহরের চারপাশে উন্মুক্ত অংশ ইতস্তত ছড়িয়ে আছে। কেমব্রিজের তখন দুটি জিনিস নিয়ে ভারি গর্ব! প্রথমটি, তাদের শতাব্দী প্রাচীন ইউনিভার্সিটি। আর দ্বিতীয়টি হল ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় মেলা, স্টৌরব্রিজ ফেয়ার, যা প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে রিভার ক্যাম-এর একেবারে ধার ঘেঁষে এই কেমব্রিজেই বসে। সেপ্টেম্বর এখানে তাই উৎসবের মাস।  ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে কেমব্রিজ শহর। ইস্ট এংলিয়া, মিডল্যান্ডস্‌, নর্থ ইংল্যান্ড, এমনকি খোদ লন্ডন শহর থেকেও লোকজন জমায়েত হয়। অনেক ব্যবসায়ী, ক্যাম ধরে…

Read More

নিউটন-২

 কিংস স্কুল ও ক্লার্কের বাড়ি সতের শতকের গ্রান্থাম ছোট ছোট সবুজ টিলায় ঘেরা অতি মনোরম এক টাউন এলাকা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রথমেই নজর টানে চারশ বছরেরও বেশি প্রাচীন গথিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত সুউচ্চ সেন্ট উলফ্রাম চার্চটি। লিংকনশায়ারের এই আধা–শহর ও আধা–গ্রামীণ অঞ্চলটিতে উল ইন্ডাস্ট্রি থাকায় এখানকার মানুষজনের সমৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। বড়জোর দু-আড়াই হাজার লোকের বাস। গ্রান্থামের বাজারে ছুতোর মিস্ত্রির দোকান, কামারশালা, কসাইখানা, বেকারি, পানশালা ছাড়াও কিছু পান্থনিবাসও আছে। ইংল্যান্ডের উত্তর-দক্ষিণে চলাচলের প্রধান সড়কের মধ্যে পড়ে গ্রান্থাম। তাই অনেক পথচারীই রাত্রি যাপন করে এখানে।          সপ্তাহের প্রতি শনিবার হাট বসে। কাছাকাছি যেসব…

Read More

নিউটন

প্রাক কথনঃ  ১৬৮৭ তে নিউটনের প্রিঙ্কিপিয়া প্রকাশিত হওয়ার পর, ফরাসি গণিতবিদ দ্য লোপিতাল  প্রিঙ্কিপিয়ার প্রাকৃতিক দর্শন ও গাণিতিক সূত্রাবলীর বিপুল কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে গভীর বিস্ময়ে বলে ওঠেন – ‘তিনি কি খাওয়া–দাওয়া করেন? পান করেন? ঘুমোন? আর সব মানুষেরই মতন কি তিনি?’ সতেরো শতকের বিখ্যাত দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ গিলবার্ট বারনেট, নিউটন সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন এই বলে – ‘সবচেয়ে বিশুদ্ধ হৃদয় সম্পন্ন মানুষ।’ ‘‘Nec fas est propius mortali attingere Divos” লাতিন ভাষায় লেখা এই কথাগুলির বাংলা তর্জমা এইরকম –  ‘ঈশ্বরের নিকটতম তিনি। সর্বশক্তিমানের কাছে এরচেয়ে বেশি আর কোনো মানুষের পক্ষে পৌঁছানো…

Read More