অভিজিৎ বেরা

অভিজিৎ বেরা’র কবিতাগুচ্ছ

 

শিকারসমগ্র

১.
ম্যামথের সাদা দাঁত
আর শৃগালির—
পাতায় পাতায় বুনে যে উষ্ণীষ
সে যাবে মৃত পুত্রের মাথায়
যে বাজুবন্ধ
সে পুত্রীর হাতায়

তোল ওদের শোয়াও কবরে।

যে খেজুরের বিষে ওরা মৃত—
আর সে বৃক্ষে থাকে যে হুর
ওকে দিও দাঁতে গাঁথা শকুনির মাথা।
শান্ত কর শান্ত কর ওকে
কে জানে
আরও কত চাই ওর
কচি কচি শিশুশব কাঁচা!

 

২.

গামলায় রক্ত রাখা
কে কে স্নানে যাবে যাও
নিদ্রা গাঢ় হলে, মানুষ
এখনও রক্তের গন্ধ পাও।
কাঁচা ম্যামথের পেটে নখ ফুঁড়ে
মনে পড়ে?
আহা যকৃৎ,স্বাদু স্বাদু
কেন ঘুম ভেঙে ধড়ফড়?
কী স্বপ্ন কী?

গামলায় রক্ত রাখা
আজ বহুদিন পরে
মানুষ মেরেছি।

 

৩.

মস্ত সে বাজার
হস্তিপৃষ্ঠে কুবের চলেছে
দুপাশে হট্ট খোঁয়াড়।
দুপাশে রক্ত গোলা

যে যাকে পাচ্ছে সমানে কুচোচ্ছে
হাতে নৃমুণ্ড ডালা।

ওই যে কুবের নামে।
ভাঙা বাজারে
এক মস্ত থালায়
মাথাগুলি রেখে—
গোনে।

 

৪.

বাড়িতে বৃদ্ধ পিতা
ছেলে বাইরে থেকে শিকল তুলেছে
পিতার সে কী চিৎকার
জটা মাথায় আগুন দিয়েছে

ভোরে—
নিঝুম পল্লি ঘুম ভেঙে শোনে
পিতা সন্তানের বাসি লাশ খায়
আর
বাইরে থেকে
পশুর শীৎকার শোনা যায়!

 

৫.

রক্তের বাজার।
তুমি কত নেবে। নিও।
বিনিময়ে আমার শিশুশবগুলি
বন্ধক রেখে দিয়ো।

দেরি কোরো না,নইলে জমে…

রক্ত নিতে এসে
দেখো কী পেয়ে গেলে !

 

৬.

খোঁড়ো কী পেলে?
স্বর্ণ, রৌপ্য

খোঁড়ো কী পেলে?
দ্রাক্ষা তামাক তুলো।

তোমার মিষ্ট দাঁত
জানি দ্রাক্ষা দ্রাক্ষা ধাত।

শরীর আরামপ্রিয়।
তুমি ক্রীতদাস কিনে
তাকে ক্ষেতের কাজে নিও।

চালাও চাবুক
দাও কুঁচকির নীচে মার।

কৌটো উল্টো করে হাত পেতেছ
সে হাতে মুদ্রার পাহাড়।

চাবুকে রক্ত। আঙুলে কীসের ঘা?
কিছু না তেমন—
মুদ্রাদোষে পচে গেছে পা।

 

৭.

কোন রাস্তা কী?
প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে রক্ত দেখেছি।
পোড়া ঘর, শহর।
শহর ঘেরা গ্রাম।
আড়াই কোটি বছর পরে
এই সবে নামলাম।

কোন রাস্তা? কী?
আড়াই কোটি বছর পরে, মানুষ—
তোমায় দেখছি।

 

৮.

শিকার শেষ।
আদিগন্ত
জানোয়ারের মাথা
রক্ত ছিটকায়
কৌপীন সূর্যে বাঁধা।

পৃথিবী জয় শেষ।
সে ভাবে কীকরে এবার
সূর্যটি হাতে পায় !

Facebook Comments

Hits: 177

Related posts

Leave a Comment