নারীর কবিতা, মানুষের কবিতা

ভাবনা কোথা হতে আসে ! ভাবনারও নিশ্চয় প্রেক্ষাপট আছে , আর সে প্রেক্ষাপট ভিন্ন কবি কি লিখতে পারে ? কবির অন্তর্গত ক্ষরণ, বেদনা, হাহাকার, সুখানুভূতি ব্যতিত ভাবনার উদয় হয় কি! সেসব অনুভূতিসমূহের আন্দোলন ছাড়া তো ভাবনা আসে না। কবিতা কবির কাছে নৈঃশব্দ্য ধ্যানের এক নাম। সমস্ত যাপন থেকে ইচ্ছে পালানোর নাম। মেঘের ওড়া, বৃষ্টির ঝরেপড়া, পাতার মর্মর, ঘাসের ডগায় ফড়িঙের বসার ভঙিমা এসব চিরাচরিতের মাঝে নতুর রঙ এনে দেয়া এক হকিয়ার। কবিতা কবির একচিলতে উঠোন যেখানে ইচ্ছেমত পাতা ফেলা, নিকোনো, ঝাটপাট দেয়া, রোদ পোহানো, কিংবা জোছনা মেখে শুয়ে থাকা চলে।…

Read More

এক ধূসর অন্তহীন হাওয়া

যখন জানলেন মুখ থেকে বেরিয়ে আসা রক্তস্রোতের কারণ তাঁর যক্ষ্মারোগ, তখন প্রথম যে অনুভূতি হল কাফকার তা বিস্ময়ের। এই বিস্ময় তাঁকে যেন আস্তে আস্তে ফিরিয়ে নিয়ে গেল তাঁর শৈশবে আর অসুখই হয়ে উঠল যেন তাঁর মা। বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে লিখলেন, ‘In any case my attitude towards the tuberculosis today resembles that of a child clinging to the pleats of his mother’s skirts. If the disease came from my mother, the image fits even better.’ তাঁর মনে হলো যে নিঃসঙ্গতার ঘেরাটোপে ডুবে থাকা মা যেভাবে নিঃশব্দে তাঁর স্নেহ ভালোবাসা ও যত্নে…

Read More

পিরিয়ড কথা-স্বাভাবিকতা বনাম রাজনৈতিক উদযাপন

আমি তেমন পরিবারেই বড় হয়েছি যেখানে মা প্রথম ঋতুদিনের আগে পর্যন্ত মেয়েকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না৷ আমার প্রথম রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল ক্লাস সেভেনের গ্রীষ্মাবকাশে। মা বললেন, ‘এবার থেকে প্রতি মাসে এরকম হবে তিন-চার দিন। হলে আমায় বলবে। পেট ব্যথা হতে পারে। হাত পা যন্ত্রণাও। ঘাবড়ানোর কিছু নেই।’  যাবতীয় পারিবারিক যৌন-শিক্ষার এখানেই শুরু এবং শেষ। ‘মাসিক’ ছাড়া যৌনতার সঙ্গে সুদূর সম্পর্কযুক্ত আর কোনো বিষয়ে মা কোনোদিন আলোচনা করেছেন বলে মনে পড়েনা৷ আর সেই আলোচনাও এত অসম্পূর্ণ যে এরপর রাস্তাঘাটে হঠাৎ শুরু হলে কী করতে হবে, জামা নোংরা হলে কী…

Read More

‘নবান্ন হইয়া গেল’

আমাদের কোনও নিজস্ব জমিজমা নেই। নেই সোনা সোনা মাটি কিংবা উগলে হীরে মোতি। আমরা যারা মফস্বলে বড় হয়েছি, শহরকে চেনার চেষ্টা ছিল খুব দূর থেকে। গ্রাম, আমাদের ফ্যান্টাসির পৃথিবীতে সেভাবে আসেনি। অগ্রহায়ণ। শ্রেষ্ঠ ধান্য। কেন শ্রেষ্ঠ? কেনই বা শ্রেষ্ঠ? আমাদের রোজ রাতে রুটি আর আখের গুড়ের পয়সা বাঁচানো নিম্ন মধ্যবিত্ততার ভেতর এসব প্রশ্ন হুমড়ি খেয়ে পড়ত। কারণ সন্ধে হলেই লোডশেডিং। আর অনেক দূরে স্টেশন পেরিয়ে দেখা টিমটিম আলোর গ্রামে ওদের বাড়িতেও সেভাবে আলো থাকত না। ওরা মানে যারা কাজ করে। বৈশাখ। বছরের শুরু। কেন? এত গরম, এত অজস্র দুর্যোগচিন্তার মাঝে…

Read More

উই আর স্টিল ডেভেলপিং…

মাহেন্দ্রক্ষণ। মানে এ লেখা যখন লিখতে বসছি, ততক্ষণে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তির উন্মোচনের পর কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যে উচ্চতা, বেড়, দৈর্ঘ্য, বানানোর উপকরণ, মোট খরচ, কত সময় লেগেছে ইত্যাদির ‘ভাইট্যাল’ স্ট্যাটিস্টিক্স মিডিয়ার কল্যাণে সকলেরই জানা হয়ে গিয়েছে। আপাতত শুধু খরচটাই প্রাসঙ্গিকতার দাবী রাখে। সূক্ষ হিসাব বলছে দু’হাজার নশো ঊননব্বই কোটি টাকা, রাউন্ড ফিগারে যদি ধরি, তিন হাজার কোটি টাকা। এই টাকায় আরও কী কী হতে পারত, কটা আইআইটি বা কটা সেচ প্রকল্প সবেরই তুল্যমূল্য হিসাব তৈরি হয়ে গেছে বিশেষজ্ঞদের সৌজন্যে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার দেখিয়েছেন, এমন একটি মূর্তি তৈরি হলে ট্যুরিজমে…

Read More

এক জানলা, একেক বিভুঁই : পর্ব-২

নেকড়ে মায়ের খোঁজ বিশ শতকের বিশ দশক। ব্রিটিশ ভারতের বিভক্ত তবু একদেশী বাংলা। জেলা মেদিনীপুর। গ্রামের নাম গোদামুরি। কাছেই এক খৃষ্টিয় অনাথ আশ্রম। তার অধ্যক্ষ রেভারেন্ড যোসেফ অমৃতলাল সিং। রেভারেন্ডের কাছে গ্রামের মানুষ প্রায়ই এসে একটা গল্প বলে। ভূতের গল্প। দুটো সাদা ভূত নাকি মাঝে মাঝে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় এক পাল নেকড়ের সাথে। তারা মানুষভূত না পশুভূত বলা মুশকিল। কেউ কেউ রীতিমতো ভয়ার্ত। কিন্তু কেউই স্পষ্ট বর্ণনা করতে পারেনা সেই ভূতেদের। অশিক্ষিত ভয় নির্জ্ঞানকে কানাঘুষোয় ফুলিয়ে বিশালাকৃতি করে তোলে। একদিন রেভারেন্ড সেই ভূতেদের দেখতে পেলেন। দুই মানবশিশু। দুটি মেয়ে। মেয়ে?…

Read More

#ডেটলাইন

চৈত্রে রচিত রোদ্দুর ফেটে বেরিয়ে পড়েছে শিমুলের তুলো। বীজ, ফল বিস্ফোরিত হয়েছে। শাল্মলীসারি এই তমালের নীচে খাঁ-খাঁ টানা মাঠ। পর্ণমোচনের ধ্বনি যেন তুলাচাষির দীর্ঘশ্বাসের মতো পাথর আঁচড়ায়। ব্যাঙ্ক-ব্যবস্থা আর ঋণনীতি অদূরে দাঁড়িয়ে থাকে। মহাজন-দালাল-ফড়ে ব্ল্যাকম্যাজিক চর্চা করে। আরও একটি আত্মহত্যার জন্ম হয়। স্ক্রোল-আপ করতে থাকি। নিউজ ফিড, ইমোজি, স্পনসরড পোস্ট, শপ নাও, ফানি ভিডিও, ঢেঁকুর তোলার ট্যাগড, অ্যাপ্লিকেশনের মাতৃভাণ্ডার। চিকিৎসা শুরুর আগেই মৃত্যু ঘটে যায়। হাসপাতালের ঘরে পোকা ওড়ে ভিজিটিং আওয়ারে। হাতে মাত্র পড়ে থাকে মিনিট খানেক যোগাযোগ। রোগীদের পথ্য নেই, ওষুধেরও ডেট এক্সপায়ার্ড। আমি লিখি না। ট্রোলসভ্যতা আমাকে লুডো…

Read More

এক জানলা, একেক বিভুঁই

ঝোড়ো হাওয়া, বোমাবর্ষণ, মুক্তকচ্ছ বিঘ্নরূপক টম রেওয়ার্থকে (Tom Raworth) কয়েক বছর আগে প্রথম দেখি সিনসিন্যাটিতে। উনি পড়তে এসেছিলেন। সে সময়ে ওঁর দোসর বা সমসাময়িক ও সমাদর্শের কবি জেরেমি প্রিন সম্বন্ধেই আমার আগ্রহ ছিলো অপেক্ষাতর প্রবল। তবু রেওয়ার্থ টেনেছিলেন। পাঠাসরে গিয়ে টের পেলাম ওঁর কবিতার ভক্তের সংখ্যা এই মাঝারি সংস্কৃতির শহরেও বলবার মতো। কোনো কথা হয়নি, আলাপ হয়নি, পাঠের পুরো সময়টা থাকতেও পারিনি। সেদিন ‘ভুলেভরা’ বা ‘Errory’এই কবিতাটা পড়েছিলেন রেওয়ার্থ। আর পড়ার সময় মন্ত্রমুগ্ধ শোতৃবৃন্দের মধ্যে এক ইঞ্চিও নড়াচড়া হয়নি। আমি একেবারে পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। টম রেওয়ার্থের পাঠের দ্রুতিটা ছিলো…

Read More