রবির মাংপবী

মংপু পর্ব “নির্জন গিরি শিরে বিরচিলি চম্পূ তারেই কি নাম দিলি মংপু?” ১ চলো মংপু কালিম্পং থেকে রওনা হতে খানিক দেরিই হল আমাদের। মংপু অন্তত দু’ঘণ্টার পথ। এই যাত্রাতেও আমাদের চালকের আসনে সুদীপ। গাড়িতে করে যখনই কোথাও যাই, সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে বসাটা আমার বিশেষ প্রিয়। চারপাশের উন্মুক্ত দৃশ্যের অবাধ হাতছানি তো থাকেই, আরও যে ব্যাপারটা আমাকে টানে, সেটা হল, স্টিয়ারিং হাতে পাশে বসে থাকা মানুষটির সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়ার মিষ্টতা। বিশেষত, অচেনা জায়গায় তারাই হয়ে ওঠে অলিখিত পথ-প্রদর্শক। বাপ-ঠাকুদ্দার মুখে শোনা গল্পগুলো কী সুনিপুণ ভঙ্গিতে ইতিহাসের তথ্য-সমৃদ্ধির পাশে নিজস্ব…

Read More

শাম্ভবী’র কথা

সহাবস্থান মালিকানার চাবি নয় কখনোই। এই যে কথায়-কথায় আমাকে হাওয়াকল প্রকাশনার কর্ণধার বা একজন বলা হয়, আমার পছন্দ হয় না। কেনই বা হবে? আমার নিজস্ব প্রকাশন সংস্থা আছে তো! শাম্ভবী দ্য থার্ড আই ইমপ্রিন্ট। সংক্ষেপে শাম্ভবী ইমপ্রিন্ট বা শুধুই “শাম্ভবী”। হ্যাঁ, প্রায় চার বছর হল আমাদের আর হাওয়াকল প্রকাশনার ঠিকানা এক। সমস্ত কাজকর্ম একই জায়গায়, একইভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু মালিকানা হস্তান্তর বা পরিবর্তনের কোনও প্রয়োজন বা তাগিদ অনুভব করিনি। করেনি বিতান চক্রবর্তীও। যার হাতে তৈরি হাওয়াকল সংস্থাটি এক দশক পূর্ণ করেছে।  সরকারি চাকরির একটা মায়া আছে, জানেন তো? মোটা বেতন,…

Read More

কালিম্পং পর্ব-২

৩. মৃত্যুশ্রান্ত কবি   ঐতিহাসিক রেডিও-অনুষ্ঠানের কয়েকদিন পরই ২১শে মে কবি শেষপর্যন্ত মৈত্রেয়ীর আবদার রক্ষা করে মংপুতে গিয়েছিলেন। এরপর আরও তিনবার তিনি মংপু এসেছেন। কোনওবার শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি, কখনও বা কালিম্পং হয়ে। শেষবার যখন মংপু এলেন ১৯৪০ সালে, সেবার আগে কালিম্পং এসেছিলেন। তারপর একদিন পরেই মংপু যান। কিছুদিন মংপুতে কাটিয়ে আবার কালিম্পঙে ফেরেন। কালিম্পঙে পৌনে দু’মাস কাটিয়েছিলেন (৭ই মে থেকে ২৯শে জুন)। সেবারের পর্বতবাসের অধ্যায়টি জুড়ে কেবলই প্রিয়জনের মৃত্যুযন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছেন চির-আনন্দময় কবি। কালিম্পং যাওয়ার কয়েকদিন আগেই মারা গেলেন চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজ। কবির কর্মজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সহকর্মী। ১৯৪০-এর শুরুতেই কলকাতায়…

Read More

কালিম্পং পর্ব

  “আমার আনন্দে আজ একাকার ধ্বনি আর রঙ, জানে তা কি এ কালিম্পঙ।” ১. বাস্তবে ব্রজেন, সিনেমায় ব্রাউন    পাহাড়ি সবুজের পরতে পরতে তখন শেষ শরতের ঔজ্জ্বল্য। শিলিগুড়ি থেকে রওনা হয়েছিলাম সকাল ন’টায়। কালিম্পং পৌঁছেছি তখন বেলা এগারোটা অতিক্রান্ত। বাংলার পাহাড়ের এমনিতেই একটা আপন করে নেওয়ার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তার উপর এই অঞ্চলে এই প্রথম। চারিদিকে একটা অভ্যর্থনার ভাব। তার উপর গত কয়েকদিনের ঝড়বৃষ্টি-ধসের পালা কাটিয়ে উঠে রোদ ঝলমলে কালিম্পং যেন নতুন রূপে আবির্ভূতা।  পরিবারস্থ অন্যান্য সকলের মধ্যে আছে আমার তেরো-বছর বয়সী অনুজ ভ্রাতা। আমার সহকারী, আমার ছায়া। মনটা কাঁচা।…

Read More

স্ববিরোধ, মহানতা, ক্লিশে

“মহান শিল্পীদের জীবনীতে প্রায়শই পড়ি তাঁদের অকল্পনীয় নিষ্ঠুরতা কথা। পড়ি, এবং ভীষণ বিভ্রান্তবোধ করি। ভাবি যে, যে-মানুষ ব্যক্তিজীবনে এতটা হৃদয়হীন এবং নির্মম, তাঁর শিল্পের আদৌ কী দাম আমি দেব? যতই মহৎ হোক সেই শিল্পকীর্তি, তবু আমি তার কানাকড়ি মূল্যও দেব কি? পণ্ডিতেরা বলেন, ভুল, এই বিচার ভুল। শিল্পীও একজন মানুষ, আর সব মানুষের মতো তার ভিতরেও রয়েছে একই সঙ্গে সাধু এবং শয়তান। এবং নিজের ভিতরে এই সাধু-শয়তানের দ্বন্দ্ব থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে তার শিল্প। সুতরাং, শিল্পীর ব্যক্তিজীবন দিয়ে তার শিল্পের বিচার এক মারাত্মক ভুল। পণ্ডিতেরা সর্বদাই এত ঠিক কথা বলেন! এত…

Read More

হার আর্মস ফুল অফ ফ্লাওয়ার্স : ওয়াইন, পারফিউম ও কবিতার গঠন সম্পর্কিত একটি গবেষণা  

  ১.  এ জীবনে, বস্তুগতভাবে, অনেকের মতো আমারও দুটো প্রিয় জিনিস হলো মদিরা ও আতর– ওয়াইন ও পারফিউম। দুটোই ফরাসী, প্রধানতঃ। খাঁটি ফরাসী সুগন্ধী ও ফরাসী ওয়াইনের স্বাদ-গন্ধ মাত্র কখনো আমি পেয়েছি। সেই থেকে মনে হয়েছে, সমর্পিত হওয়ার জন্যে এর চেয়ে ভালো আর কী-ই বা হতে পারে। ফ্রান্স ও ইতালির সেইসব মাইল মাইল বিস্তৃত রৌদ্রকরোজ্জ্বল আঙুরের খেত– বার্গান্ডি, টাসকানি ! ‘স্টিলিং বিউটি’-ছবিতে বার্তোলুচ্চি সেই টাসকান ভূখন্ডের এক ঝলক  দেখিয়েছিলেন।    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় একবার লিখেছিলেন, মৃত্যুকালে যেন মুখে কিছু চিনি নিয়ে মরি। কেন যে চিনির মিষ্টত্ব ইচ্ছা করেছিলেন জানি না। তবে মদের…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – অন্তিম পর্ব

১৪. কুয়াশা কাটছে।  সোমেশ্বরী নদী, দূরে গারো পাহাড়, নদীর বুকে  এই শীতে ধু ধু বালুচর। মধ্যিখানে শীর্ণ জলরেখা। নদীর বুকে বালি তোলার লরি। নদী পার হয়ে দুর্গাপুরে প্রবেশ করছে তারা। সুসঙ্গ। রাজার সঙ্গ ছিল অতি মধুর, রাজা ছিলেন প্রজাপালক, তাই সুসঙ্গ। রাস্তা সংকীর্ণ। টোটো, অটো, ম্যাটাডোর, মিনি লরি, গরুর গাড়ি এক সঙ্গে লাইন মেরেছে, মুখোমুখি হয়েছে। অতীনের কথায় বিপুল জিজ্ঞেস করল, প্রজা পালক রাজা সিমসাং নদীর নাম নিজের নামে করতে সম্মতি দিলেন কেন ?       অতীন বললেন, একই নদীর নাম স্থানে স্থানে আলাদা হয়, আপনাদের ব্রহ্মপুত্র আরো পুবে অনেক  উপরে, চিন…

Read More

দোষ

আজকাল নিপাট ভ্রূযুক্ত মানুষদের ভন্ড বলে মনে হয় চঞ্চলার। কথা বলতে গিয়ে মানুষের ভ্রূ দেখতে থাকে সে। আসল কথা কানে বা মাথায় ঢোকে না। মানুষের ভ্রূ দেখে মানুষকে যাচাই করতে থাকে চঞ্চলা। আর দেখে কীভাবে সত্যি সত্যি নিপাট ভ্রূযুক্ত মানুষেরা ভন্ডামি করে চঞ্চলার সাথে। ভন্ডামির শিকার হতে হতে চঞ্চলা গাছে জল দেয়, সমস্ত বিধ্বংসী খবর উপেক্ষা করে শব্দছক সমাধান করে খবরের কাগজের পাতায়। চঞ্চলার স্বামী গলা তুলে বলে “এক কাপ চা হবে না কি,” চঞ্চলারা নিঃসন্তান। ঘরে আসবাবপত্রের বাহুল্য নেই তাই। কোথাও কোনো উৎপাতের চিহ্নমাত্র নেই। দেওয়ালে রংপেন্সিলের অত্যাচার নেই।…

Read More

মৎস্যপুরাণ

গলির মোড়েই একটা ফুলের দোকান। রোজ সকালে সিধুদা নৈহাটি থেকে আসে ডাউনের ট্রেনে চড়ে। মাথার বোঝাটা নামাতে বেশ কষ্ট হয়। ট্রেনে ওঠার সময় কেউ কেউ ঝাঁকাটা ধরে তুলে দেয়। আবার কখনও লোক পাওয়া যায় না৷ এত দোপাটি, গোলাপ আর রজনীগন্ধার ভার বয়ে চলে সিধুদা। শুধু বুধবার ওর ছুটি। ঐদিন গাঁদা, গোলাপেরও ছুটির দিন। পাড়ার গৃহস্থ বাড়ির নিত্যপুজোর ফুল সেদিন মোল্লার হাট থেকে কিনে আনতে হয়। “মোল্লার হাট” নামটা বহুকাল ধরেই চলে আসছে, তাতে মোল্লা হোক বা মালাকর কারোরই কিছু আসে যায় না। তিন্নির জ্যামিতি বক্সে একটা মাছের ছবি আঁকা। অনেকটা…

Read More

সোহম দাস ভয় পায়নি

“আমাদের বাড়িতে মাঝেমধ্যেই একজন আসেন। তাকে আমি চিনি। কিন্তু তার পরিচয় আমি জানি না।” এই অবধি বলেই থেমে গেল সোহম। ইদানীং আরও একটু মোটা হয়েছে সে। নিয়মিত চুল-দাড়িও কাটে না। কেমন একটা অন্যমনস্ক হয়ে থাকে, কী যেন ভাবছে সারাদিন! লক্ষ্য করেছে শুভদীপ। সোহমের বন্ধু। দাদাও। হাতে ধরা রাখা সিগারেটের দিকে মাথাটা ঝুলিয়ে সোহমকে বসে থাকতে দেখে শুভদীপের একটু চিন্তা হলো। কিন্তু বিষয়টাকে হালকা করে নেওয়ার জন্য সোহমকে বললো, “আমার মনে হয় তোকে ভূতে ধরেছে। সেটা তুই বুঝতে পারছিস না। তাই তোকে মাঝেমাঝে জানান দিতে আসে, এই দ্যাখো আমি এসেছি।” বলেই…

Read More

ইউরেকা!

জাফরির ফাঁকে তখন দুপুরের আলোখেলা। জানলা দিয়ে সোজা তাকালে তখন আশেপাশের চুনকাম করা হাল্কা রঙের বাড়িগুলোয় পাকারঙ লাগতে শুরু করেছে। আহিরা সেদিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু আহিরা সেদিকে দেখছিল না। তার সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন ঘড়ির কাপড় কাচার শব্দে আস্তে আস্তে বুঁদ হয়ে আসছিল। ঘাড় ফিরিয়ে যে ঘড়িটার দিকে তাকাবে, সে শক্তিও প্রায় ছিল না। তবু সে একসময় ঘাড় থেকে প্রায় পাথর সরানোর মতো শক্তি প্রয়োগ করে ঘুরে তাকায় আস্তে করে ঘড়িটার দিকে। তার আস্ত শরীর তখন নিজেই নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছে। কোনওমতে ও দেখল, মানে দেখতে পেল– ওর সমান্তরাল দুই হাত মিনিট…

Read More

পৃথিবীর শেষ লেখা

গাছেরা এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে।   চমকে যাবেন না। আপনি যদি আমার লেখার খাতাটা হাতে পেয়ে থাকেন, আমার ভাষা যদি আপনার বোধগম্য হয়, তাহলে এই লেখা একটা মর্মান্তিক ইতিহাসের বিরাট দলিল হয়ে থাকবে। গুছিয়ে রাখবেন। আপনাদের নতুন পৃথিবীতে এই লেখাটার ধর্মগ্রন্থের মতো ঘরে ঘরে বিরাজ করা উচিৎ। যাতে আপনারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। আমাদের ভুল যেন আপনাদের না হয়। আপনারা যদি গাছের বিকল্প বানিয়ে ফেলে থাকেন, তাহলেও এই দলিল আপনাদের বারংবার আত্মতুষ্টি থেকে বিরত রাখবে। আর গাছেদের যদি আপনারা আবার দমন করে ফেলতে সক্ষম হন, তাহলেও আমার লেখা অভিজ্ঞতা আপনাদের…

Read More

মোহনা

কী সুন্দর নাম স্টেশনটার! কুন্তীঘাট! একটা নদী বয়ে যাচ্ছে গা ঘেঁষে। নদীতে ঘাট, ঘাটে বাঁধা নৌকো। এখানে নেমে পড়লে হয়। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কি পৃথিবীর সব স্টেশনে নেমে পড়া যায়? সৃষ্টিধর যাচ্ছে এখন সমুদ্রগড়। পিসতুতো ভাইয়ের বাড়ি। সেখান থেকে নবদ্বীপ যাবে। ভাঙ্গা রাস দেখতে। ট্রেন চলতে শুরু করল। সৃষ্টিধরের হঠাৎ কী যে হল, একে ধাক্কা দিয়ে, ওকে গুঁতিয়ে সে নেমেই পড়ল কুন্তীঘাট। তার যদিও যাওয়ার কথা সমুদ্রগড়। সেখান থেকে নবদ্বীপ গিয়ে ভাঙ্গা রাস দেখবে, কিন্তু তার বয়সী একটা লোক ভাঙ্গা রাস দেখতে ভায়ের বাড়ি যাচ্ছে- এটা কেউ ভালভাবে নেবে না।…

Read More

ঋত-এর পথে

প্রকাশনা জগতে ঋত পা রাখে ২০১৫ সাল। তখন নাম ছিল শুধুই ‘ঋত’। দলে ছিলাম আমরা তিনজন। আমি, সুমিতা সামন্ত এবং অন্য আরেক বন্ধু। ঠিক হয়েছিল ঋত প্রকাশ করবে শুধুমাত্র নানা বিষয়ের বই– কবিতা, গল্প, স্মৃতিকথা ইত্যাদি। আমাদের প্রথম প্রকাশিত বই নীলা দত্ত-এর স্মৃতিকথা ‘ছিন্নমূলের ডায়েরি’। চারফর্মার পেপারব্যাক বই। শুরু হল তুমুল উদ্যম। ওই একটি বই নিয়েই তখন কত ভাবনা। ধীরে ধীরে এগিয়ে এল বইপাড়ার বিপনন কেন্দ্রগুলি, বিশেষত দে’জ। স্থির হয়েছিল ঋত একবছর সময় হাতে নিয়ে বেশ কিছু বই প্রকাশ করবে, তারপর ২০১৭-র কলকাতা বইমেলায় পূর্ণমাত্রায় আত্মপ্রকাশ। উৎসাহ দিয়েছিলেন পাশে এসে…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ৭

১২.       বিপুল অবাক হয়ে শুনছিল অস্থির মিঞার কথা। অতীন হতবাক। বিপুলের মনে হলো এ সেই অথৈচন্দ্র, হাতিখেদা থেকে বেঁচে আছে এতকাল ধরে। তা না হয়ে হয় না। সুধীন্দ্রর কাহিনি আর অতীনের কাহিনি যেভাবে এক হয়ে যায়, ঠিক সেই ভাবে এর কাহিনি আরো কিছু উপাদান যোগ করে দিল মৈমনশাহী পালায়। অস্থির মিঞা  বলছে সেই মেয়ে লীলাবতী না লীলাময়ীর রোষ ছিল খুব। তার মা জননী গারো পাহাড়ের মেয়ে, এই কংস নদীর ধারের এক বামুনের পোলার হাত ধরে নেমে আসে, তার ভিতরে পাহাড় ছিল।       সেই কইন্যা ডাকসিল হস্তী, তুমু ঠিক বলতিস ? চন্দ্রকুমার…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ৬

১০.      বিপুল আছে অনেক পুরোন এক জেলা পরিষদ গেস্ট হাউসে। বাড়িটার চারদিকে নানান গাছ-গাছালি। রোদ এখানে ওঠে অনেক বেলায়। শীতের দিনে এমনিই চলে। গেস্ট হাউস বেজায় ঠান্ড, যাকে বলে হিম শীতল। একটি ঘরে চন্দ্রকুমার, অন্যটিতে বিপুল। গেস্ট হাউসে একজন কেয়ার টেকার আছে। যুবক। বিনু বৈরাগী। চাঁদবিনোদ বৈরাগী।  বয়স বছর পঁচিশ। মোহনগঞ্জ হাওর এলাকায় বাড়ি। তার বাবা জেলা পরিষদে ডি-গ্রুপ কর্মচারী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর সে চাকরিটা পেয়েছে, কিন্তু পার্মানেন্ট নয়। মাসে আট হাজার পায়। পাকা হয়ে গেলে মাইনে পনের হয়ে যাবে। কিন্তু কবে পাকা হবে জানে না। চন্দ্রকুমার বলল,…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ৫

৮.     হায় হায় কী কয় নতুন বৌ। কানে দিতে দিতে হাত কান অবধি পৌঁছায় না। কথায় বিষ হইলেও, তা বড় মিঠা।  কচি মেয়ের মুখে এহেন কথা শুনে বড় মেজ, দুই বৌয়ের অবাক ভাব যায় না। ছোট বউ যেন গনগনে আগুন। এই বয়সে এমনই হয়। তাদের কুড়ি পেরিয়েছে। বুড়ি না হয়েও বুড়ি। বড়র তো তিরিশ হতে যায়। বড় একেবারের বুড়ি গিন্নি। মেজর তেজ বেশি, সে  বলল, ও মা, মা, বুঝি নে, সবে তো একদিন, এক বাসর, তুই ওঁরে জাগাইয়া দে, না জাগাইলে যৈবন তুর কেমন সি যৈবন !      মু ও লকের…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ৪

৭.       লীলাবতী রাতে খায়নি। লীলাবতী ক্রুদ্ধ মারজারিকার মতো ফুঁসতে থাকে। হাত-পা ছুঁড়তে থাকে। লীলাবতী রাগ করে। লীলাবতী কাঁদে। তার সন্দেহ হচ্ছিল। তার জীবন নষ্ট করে দেবে বাবা শীতলচন্দ্র। মা খেত না। মা নীরবে কাজ করে যেত। লীলাবতীকে বলত, তার বাবা বলে পাহাড়িয়া বিবাহ করে পতিত হয়েছে, কুনকি। মা ছিল নাকি কুনকি। যে হস্তিনী ভুলিয়ে ভালিয়ে  বন্য হস্তিকে গড়ে বন্দী করে ফেলে তার স্বাধীনতা হরণ করে। কুনকি হাতি তার বাবাকে  ভুলিয়ে গড়ে বন্দী করেছে। মা  মরলে ব্রাহ্মণের আবার উত্থান হবে। না খেয়ে খেয়ে মা রোগে পড়েছিল। সেই রোগেই মা মরে যায়।…

Read More

মৈমনশাহী উপাখ্যান – ৩

৫.   পাহাড় পিছিয়ে যেতে লাগল। কে কইসে পাহাড় পিছিয়ে গেছে ?  কংস নদীর ওপারে যাও, একটু বাদে আর পাহাড় দেখা যাবে না। আগে দেখা যেত। মৈমনসিং নগর থেকেও দেখা যেত। এখন নেত্রকোনা থেকে দেখা যায় না। কিন্তু পাহাড় তো নিশ্চল। সে কী করে  পিছিয়ে যায় ? তা কখনো হয়। এই যে তোমার ক্ষেত-জমি, তা তো তার জায়গাতেই থাকে। এই যে তোমার ভিটে-বাড়ি, তা কি মাইল মাইল দূরে চলে যায়। রাজার বাড়ি, রাজার বাড়ি তো রাজার বাড়িতেই থাকে। সেই যে কমলা সায়র, সে কি তার নিজের জায়গায় নেই?  কংস নদী পার…

Read More

নো রিফিউজাল নো অনার

আনন্দ সিনেমা হলের মুখের উল্টোদিকে, চোরাই জুতো বিক্রির গুটিয়ে থাকা দোকানগুলোর চোখের সামনে একটা কুণ্ডলী- সোৎসাহে ঝুঁকে পড়ে, বিবেচনাপ্রসূত হয়েই আশপাশের সন্দেহজনক পরিবেশ কুণ্ডলীটাকে একটা দুর্বোধ্য বৃত্ত হয়ে উঠতে যথাসম্ভব সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বৃত্তটার ঘনত্ব ক্রমশ বাড়ছে, বাড়ছে তাপমাত্রাও, পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করতে নিঃশ্বাসের চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি-ই বা আছে? তবে ঘটনাটা ঠিক কী, তা আন্দাজের আওতায় পড়ছে না এখনও। ‘কিছু বুঝতে পারছেন?’ বৃত্তটাকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে সাহায্য করর একজোড়া বাটা স্যান্ডেলের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলহাতা শার্টের পকেট। পকেটের কাছে টাকা নেই, আছে একটি বলপয়েন্ট পেন,…

Read More