তোমার বিপুল আনন্দাশ্রু হোক

১। অপেক্ষার মত অশান্ত একটা ঢেউ দেখতে খালি পায়ে অজস্র মানুষ চলে যাচ্ছে সচরাচর পেরিয়ে – ভূখন্ড সাদা, লবনের শুভ্রতা দুঃখের হাসির মত একটা মুখমন্ডল খেয়ে ফেলেছে – সৌন্দর্য দেখে ঈশানী, মনে পড়ে আমার ইতিহাস ভূগোল সবই সমান পিচ্ছিল – হয়ত রক্তে বাসি ভগ্নপ্রায় এই খন্ডদৃশ্য তোলা আছে দীর্ঘদিন পর দেখবার জন্য সময় ও মানুষের গলে যাওয়ার মধ্যে আছে একটা লুপ্ত নদী – অন্যথায় যাকে বলা যায় শূন্যতা – বা একটা দেওয়াল বা এমনকিছু যা কোনওকিছুর থেকেই আলাদা নয় – আজ সন্ধেবেলা এক প্রৌঢ়া আমার কাছে আসায় আমি সবকিছু স্পষ্ট…

Read More

বিধান সাহার কবিতা

অব্যক্ত সন্ধির দিকে ০১. বেদনার ভাষা দেখো প্রিয়মুখে কীভাবে মিলায়! এই যে কামনালাপ পথে পথে নিত্য বরিষণ কর্ষণ বিনে কি বলো পাওয়া যাবে বিকল্প লবণ? শৈশবের পাতাঝরা দিন প্রতিদিন বেদনায় হাওয়ায় মিলায় আর কত কথা ব্যথাতুর মনে ক্ষণে ক্ষণে জেগে ওঠে সদ্য বিধবা নারীর মতো! তবু নয় বেঁচে থাকা মানে মেনে নেয়া সব, স-ব— যেভাবে আহত বাঘ আরো বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে কামনার ছায়াপথে তার থেকে থেকে জেগে ওঠে দূরতম নক্ষত্রের বীজ যাতনার অনুযোগে— পত্রযোগে বিলোড়িত এই বার্তা তাহাদের দেশে হঠাৎ পৌঁছে গেলে মেঘে মেঘে নেমে আসে রামধনু। কে বলে…

Read More

নীল খামের নদী

১ বিনুনির ভাঁজে রাখা মন ক্লান্ত হয়ে আসে এত ক্লান্তি, হে পাঠক ! বালিশের তুলোয় ধরে না বলে সে মিথ্যে মিথ্যে জন্ম দেয় আয়না-সকাল মিথ্যে মিথ্যে ট্রেনে করে যাওয়া দু-ধারে জল জলে পেকে ওঠে তার ঘুম ঘুমের সন্তান তাকে হাত ধরে ধরে নিয়ে যায় সিলিংফ্যানের দিকে   ২ আজকাল সিলিংফ্যানই তার সব তার ঘূর্ণন ঘর্ঘর জমে থাকা ধুলো সেই ধুলো জড়ো করে করে, বিছিয়ে তৈরি করা একটা পথ পথের কিনারে ল্যাম্পপোস্ট আদিগন্ত সবুজ। রাতের কিছু বমি প্রতি রাতের এই শ্রমে তার চিবুকের রঙ নীল হয়ে আসে   ৩ আমি কল্পনা…

Read More

চর্যাপদ: প্রথম পা ফেলা বাংলা কবিতা

চর্যাপদ বাংলাভাষার সেই অভিজ্ঞান, যা গোপনে একটি নিজস্ব পরিসর গড়ে তুলে সৃষ্টি করেছিলো বাংলা কবিতার ভুবন নিজেরই অজান্তে। অজান্তে এই কারণে যে, যে বৌদ্ধ-তন্ত্র কায়াবাদী সাধকেরা এই পদগুলির নির্মাতা, তারা কিন্তু সচেতনভাবে কবিতা লিখতে চাননি, তারা চেয়েছিলেন তাদের প্রান্তিক ধর্মকে ব্রাহ্মণ্য-ধর্মের ঘেরাটোপ থেকে বাঁচিয়ে সুরক্ষিত করতে। কিন্তু এই কাজ তো সহজ নয়। তাহলে উপায়? উপায় গড়ে দিলো এমন এক নব্যআবিষ্কৃত ভাষা যার সঙ্গে সমাজে মূলস্রোতে বসবাসকারী মানুষদের তেমন সংস্পর্শ তৈরি হয়নি। লোকে বলতো প্রাকৃতজনের ভাষা। উচ্চবর্ণের মানুষের যে ভাষার প্রতি ছিলো ভীষণ উপেক্ষা। পাল-সেনযুগের রাজাদের ক্রূরচক্ষু এড়িয়ে এইসমস্ত সিদ্ধাচার্যদের ওই…

Read More

একটি পাহাড়ের মুখোমুখি

* দুই হাত জড়ো করে, পাহাড়, এই বসলাম। এখন ভয়ের সুগন্ধ নেই মালতীলতায়, তবু আমার প্রাণ এই রাখলাম একজোড়া চেরিফলের মতো। বিরাট পাথরের আকার তোমার হৃদয় হতে দুটি জলের ধারা, একটু ভিজে পাতার সুবাস পাওয়া যেতে পারে – স্থানীয়রা এমনই বলেছে। বলেছে একটি পাখির হৃৎস্পন্দনের মতো ছোট সামান্য উচ্ছ্বাস, মরমী গাছের শ্লেষ্মার মতো ব্যথা , এইসব কথা বলতে বলতে মেঘ নেমে আসবে জলপ্রপাত হয়ে। ত্রিভুজের মতো বাড়ির চিমনি হতে এগিয়ে আসবে ঘন্টার শব্দ। আর আমি এ সমস্ত হতে দেব আমার শ্লেষ্মা, শ্লেষ, অস্ট্রিচের গলার মতো সরু বেদনা এই দুটি চেরিফলে…

Read More