সঙ্ঘমিত্রা হালদারের কবিতাগুচ্ছ

ভেংচি পুরোটা মনে আসছ না, তবে পেশীতে, শরীরে? অন্তত কোনও ভাঁজে ঢেউ কিংবা খাদের মতো অপেক্ষা করছ? নেই হাওয়ায় পাতা নড়লে, ভূত নয়, নিজেকে কিংবদন্তী লাগে ও উহ্য তোমাকে রপ্ত করবার আকাঙ্ক্ষায় থাকি চারিদিকে চরিত্ররা বাজারে যায়, পার্স খোয়ায় এসে দেখি বাঁকের কাছাকাছি কেউ বা হাঁটা নকল করছে তোমার অনুসরণ করার দূরত্বে এলে দেখি কোথাও আসল নেই তোমার তুমি-ই নেই এই লেখাটুকু হবে বলে পেশীতে বসে ভেংচি কাটছিলে   শব্দের বদলে শব্দের বদলে মুখ থেকে উঠে আসছে থকথকে কাদা একমনে কোনও অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের বাগান থেকে উঠে আসছে প্রিয় কলহ যার…

Read More

অনিমিখ পাত্রের কবিতাগুচ্ছ

কবিতা কত পাতা নড়বো হাওয়ায় কত ফল পড়ে যাবো, গায়ে লেখা থাকবে অবিমৃষ্যকারী এক পাখি বসন্তে তো অন্য পাখি ঠুকরে খায় প্রিয় মার্চ মাস হাওয়ায় গর্ত করে ঢুকে পড়ে দূরদেশে ভ্রমণের কথা বাপ রে! লাইন দেখে কেটেছি এক্কেবারে সিজন টিকিট আমি ঋতুবদলের পুরনো গ্রাহক। ফলে বাড়তি সময় পেয়ে যথাসাধ্য কবিতার চেষ্টা করে থাকি।   কাহিনি দায়সারা একটা রোদ এসে জীবনের কিছুটা দেখাল তখন তো সারা বাড়ি কী হয় কী হয় ভাবে থমথম করছে আর সেই রোদে উড়ে এসে জুড়ে বসল দু’চারটি সন্দেহের পাখি কাহিনি এবার শুরু – এরকম ঘোষণাও দিয়ে…

Read More

সৈকত সরকারের কবিতাগুচ্ছ

একাদশী ও ম্যালিগন্যান্ট ভোর ১. লোহা ছুঁয়ে থাকলে রাতের পরব গায়ে লাগে না। টেম্পোর খোলা মঞ্চে তখন মড়া নিয়ে তুমুল মোচ্ছব পয়সায় পয়সায় টোকা লেগে তাল দিচ্ছে শোকের বিতানে লোহা ছুঁয়ে আছি সশস্ত্র লোহার কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে? যেমন আলোর থাকে কাফের মাড়ানো অপরাধ   ২. গুলমোহরের শুভেচ্ছা পৌঁছতে দেরি হয় বর্ষার ছবিও তো হরিদ্রাভ তোমারই রঙের ফুলদানির কৌলীন্য মেখে যেসব মরশুমি লেখাগুলো হেঁটে গেছে কলম উঁচিয়ে তুমি তার প্রুফ-না-দেখা প্রমাদ প্রতি সৌজন্য সংখ্যায় কেমন চড়ুই-সমারোহে ফুরিয়ে যাও শোকের মতন!   ৩. হাত পা ছড়ানো কিছু আকার দিতে গিয়ে প্যাস্টেল…

Read More

মনোজ দে’র গুচ্ছ কবিতা

গজদন্তের মেয়ে ১. যেন সেনাপতি, কোনো এক কোন ঘেঁষে এগিয়ে, উজ্জ্বল; যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুত রমণী ভাবছি সমর্পন করবো। প্রতিকীর সামনে দাঁড়িয়ে বলবো, কবুল, কবুল, কবুল ২. মাঝে মাঝে নিজেকে অদ্ভুত লাগে সব অভিযোগ জড়ো করি; সেরে উঠব ভাবি সচেতন যুবক হিসাবে জানানো জরুরি তোমার হাসির আরও ভেতরের কোণে রাখা আছে পুরুষের ছোঁয়াচে অসুখ ৩. জ্বর নয়। এ এক অদ্ভুত স্বপ্নদোষ তাড়া করে; ঘুমোতে পারি না বেশিক্ষণ আবহাওয়া থমথমে। তোমাকে দেখার পর যেকোনো স্বাভাবিকতায় ঈষৎ ভিজে যায় ৪. সাদা সংলাপ, পাতার পর পাতা; মনে হয় জ্বরের ওষুধ; আমাদের অবয়ব জুড়ে শুয়ে বন্ধু…

Read More

দুর্জয় আশরাফুল ইসলামের গুচ্ছ কবিতা

ভিটে-বাড়ি যে কোন জলদিঘিকে মনে হয় কবিতায় ছুঁয়ে আছে আর যে হাঁসেরা খেলা করে অলস দুপুরবেলা তাদের আঙুলের মাপ নেবে বলে থরথর করে জল নামছে নরম রোদের ভেতর এই স্মারকচিহ্নের খেলা চলে – ছায়ামেঘ দূরে বসে থাকে অপেক্ষায়, কখন বাঁশিতে সুর তুলতে তুলতে আলস্য গাঢ় হয়, পৃথিবী ঘুম যায়; যে কোন চোখের গল্পে হরিণ মূর্তি নামে, দাবাঘর ঘিরে স্তব্ধতা যেরকম। অতীতের প্রেমিকেরা আজ কোথায়, হাতপাখার বুননে যে গ্রীষ্মকাল তার উত্তাপ থেকে সরে বৃষ্টিমণ্ডলের দেশে? নড়ে ওঠে বন্ধ্যা বাতাবিলেবু গাছ, কোন খোঁজ নেই, শুধু জানি খুঁড়তে জানলে আজও পাওয়া যেতে পারে…

Read More

শুভম চক্রবর্তীর গুচ্ছ কবিতা

নির্মাণ আমার শরীর নেই আমি থাকি কিছুটা শরীরে বাকি সব ঝুলকালি কুয়াশা কুয়াশা বোঝাপড়া তোমার শরীর ছুঁয়ে ফিরে এসে মনে হয় আসলে শরীর নেই যা আছে ভীষণ মনগড়া !   সংকেত নৈ:শব্দ কিছুই নয় ঝিম হয়ে রয়েছ আড়ালে শুকনো পাতারা দূরে ঝরে ঝরে ক্ষয়ে গেল আয়ু নৈঃশব্দ কিছুই নয় মর্মগহীনের নিচে থেঁতলে যাওয়া কিছু বাদাবন আমার আরতি জাগে প্রত্যেক মায়াবী ঘোরে নৈঃশব্দ কিছুই নয় একটি রমণ ভেঙে অসংখ্য রমণ…   সংলাপ ছোবল মারোনি তাই প্রতি রাতে আক্ষেপ বেড়েছে ছোবল মারোনি তবু অতিবিষে নীল হয়ে যাই তোমার ফাটানো জিভ অতিচেতনার কালো…

Read More

গুচ্ছ কবিতা

 স্বপ্ন ও আয়ু এক টুকরো স্বপ্নের ভেতরে দেখা গেল আয়ু আমার বেশী নেই, অতএব আমাকে আরও বেশী করে কাজ দ্রুত করে ফেলতে হবে, না কি আরও বেশী করে ঢুকে যেতে হবে স্বপ্নের ভেতর? কেননা সেখানে আয়ুস্কাল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, সেখানে সকালের তাড়াহুড়ো, অন্যথায় চোখের বাইরে তো সব যে কে সেই, স্রোতের পরে স্রোত বাজে বকা অনন্ত ঢিলেমি চোখের খোলা বন্ধের মধ্যে যাতায়াত আমাকে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নটির শেষে, রুমালের সাইজের স্বপ্নে সকলেরই হাতের কাজগুলো সেরে নেবার তাড়া, কেননা এখনও হাতের পুত্তলিটির ভেতরে প্রাণ ফুঁকে দেওয়া হয়নি এখনও পিতা ও তাদের উর্ধতন…

Read More

তোমার বিপুল আনন্দাশ্রু হোক

১। অপেক্ষার মত অশান্ত একটা ঢেউ দেখতে খালি পায়ে অজস্র মানুষ চলে যাচ্ছে সচরাচর পেরিয়ে – ভূখন্ড সাদা, লবনের শুভ্রতা দুঃখের হাসির মত একটা মুখমন্ডল খেয়ে ফেলেছে – সৌন্দর্য দেখে ঈশানী, মনে পড়ে আমার ইতিহাস ভূগোল সবই সমান পিচ্ছিল – হয়ত রক্তে বাসি ভগ্নপ্রায় এই খন্ডদৃশ্য তোলা আছে দীর্ঘদিন পর দেখবার জন্য সময় ও মানুষের গলে যাওয়ার মধ্যে আছে একটা লুপ্ত নদী – অন্যথায় যাকে বলা যায় শূন্যতা – বা একটা দেওয়াল বা এমনকিছু যা কোনওকিছুর থেকেই আলাদা নয় – আজ সন্ধেবেলা এক প্রৌঢ়া আমার কাছে আসায় আমি সবকিছু স্পষ্ট…

Read More

বিধান সাহার কবিতা

অব্যক্ত সন্ধির দিকে ০১. বেদনার ভাষা দেখো প্রিয়মুখে কীভাবে মিলায়! এই যে কামনালাপ পথে পথে নিত্য বরিষণ কর্ষণ বিনে কি বলো পাওয়া যাবে বিকল্প লবণ? শৈশবের পাতাঝরা দিন প্রতিদিন বেদনায় হাওয়ায় মিলায় আর কত কথা ব্যথাতুর মনে ক্ষণে ক্ষণে জেগে ওঠে সদ্য বিধবা নারীর মতো! তবু নয় বেঁচে থাকা মানে মেনে নেয়া সব, স-ব— যেভাবে আহত বাঘ আরো বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে কামনার ছায়াপথে তার থেকে থেকে জেগে ওঠে দূরতম নক্ষত্রের বীজ যাতনার অনুযোগে— পত্রযোগে বিলোড়িত এই বার্তা তাহাদের দেশে হঠাৎ পৌঁছে গেলে মেঘে মেঘে নেমে আসে রামধনু। কে বলে…

Read More

নীল খামের নদী

১ বিনুনির ভাঁজে রাখা মন ক্লান্ত হয়ে আসে এত ক্লান্তি, হে পাঠক ! বালিশের তুলোয় ধরে না বলে সে মিথ্যে মিথ্যে জন্ম দেয় আয়না-সকাল মিথ্যে মিথ্যে ট্রেনে করে যাওয়া দু-ধারে জল জলে পেকে ওঠে তার ঘুম ঘুমের সন্তান তাকে হাত ধরে ধরে নিয়ে যায় সিলিংফ্যানের দিকে   ২ আজকাল সিলিংফ্যানই তার সব তার ঘূর্ণন ঘর্ঘর জমে থাকা ধুলো সেই ধুলো জড়ো করে করে, বিছিয়ে তৈরি করা একটা পথ পথের কিনারে ল্যাম্পপোস্ট আদিগন্ত সবুজ। রাতের কিছু বমি প্রতি রাতের এই শ্রমে তার চিবুকের রঙ নীল হয়ে আসে   ৩ আমি কল্পনা…

Read More

চর্যাপদ: প্রথম পা ফেলা বাংলা কবিতা

চর্যাপদ বাংলাভাষার সেই অভিজ্ঞান, যা গোপনে একটি নিজস্ব পরিসর গড়ে তুলে সৃষ্টি করেছিলো বাংলা কবিতার ভুবন নিজেরই অজান্তে। অজান্তে এই কারণে যে, যে বৌদ্ধ-তন্ত্র কায়াবাদী সাধকেরা এই পদগুলির নির্মাতা, তারা কিন্তু সচেতনভাবে কবিতা লিখতে চাননি, তারা চেয়েছিলেন তাদের প্রান্তিক ধর্মকে ব্রাহ্মণ্য-ধর্মের ঘেরাটোপ থেকে বাঁচিয়ে সুরক্ষিত করতে। কিন্তু এই কাজ তো সহজ নয়। তাহলে উপায়? উপায় গড়ে দিলো এমন এক নব্যআবিষ্কৃত ভাষা যার সঙ্গে সমাজে মূলস্রোতে বসবাসকারী মানুষদের তেমন সংস্পর্শ তৈরি হয়নি। লোকে বলতো প্রাকৃতজনের ভাষা। উচ্চবর্ণের মানুষের যে ভাষার প্রতি ছিলো ভীষণ উপেক্ষা। পাল-সেনযুগের রাজাদের ক্রূরচক্ষু এড়িয়ে এইসমস্ত সিদ্ধাচার্যদের ওই…

Read More

একটি পাহাড়ের মুখোমুখি

* দুই হাত জড়ো করে, পাহাড়, এই বসলাম। এখন ভয়ের সুগন্ধ নেই মালতীলতায়, তবু আমার প্রাণ এই রাখলাম একজোড়া চেরিফলের মতো। বিরাট পাথরের আকার তোমার হৃদয় হতে দুটি জলের ধারা, একটু ভিজে পাতার সুবাস পাওয়া যেতে পারে – স্থানীয়রা এমনই বলেছে। বলেছে একটি পাখির হৃৎস্পন্দনের মতো ছোট সামান্য উচ্ছ্বাস, মরমী গাছের শ্লেষ্মার মতো ব্যথা , এইসব কথা বলতে বলতে মেঘ নেমে আসবে জলপ্রপাত হয়ে। ত্রিভুজের মতো বাড়ির চিমনি হতে এগিয়ে আসবে ঘন্টার শব্দ। আর আমি এ সমস্ত হতে দেব আমার শ্লেষ্মা, শ্লেষ, অস্ট্রিচের গলার মতো সরু বেদনা এই দুটি চেরিফলে…

Read More