ব্যক্তিগত কান্নার নিকটে

১. এমন হাতের টান; মনে হয় লিপিটি অস্থির যেন কিছু কাঠুরিয়া সার বেঁধে সারি সারি গাছে কুঠার বসিয়ে দিচ্ছে, অবিশ্বাস্য হরফের ভিড়ে পাঠে ব্যর্থ কোন এক পুরুষের দৃষ্টি জমে আছে ২. এখানে বিকেল, গায়ে হলুদ আলোয় ম্রিয়মাণ; গান নিয়ে ঘুরে ফেরে, সমুদ্রের পাড় বরাবর, ক্রেতা-বিক্রেতা, ঢেউ, মদ, ছুটি, লৌকিক চা-পান মানুষের ছাপ নেই, বহুদিন বালির ওপর ৩. সে কিসের স্মৃতি, যার সাথে তুমি তুলনামূলক দুঃখ-মুহূর্তে তাকে রোমন্থন করে কোনদিন ভেবেছি উপায় হবে, অতঃপর মন্ত্রমুগ্ধবৎ আনন্দের ক্ষণগুলি হয়ে গেছে দুঃখের অধীন। ৪. তবুও বিশ্রাম পেলে মগজ পুনর্পাঠে ডোবে উতল ছটফটানি-দৃশ্যকে থামিয়ে…

Read More

নবকুমার পোদ্দারের কবিতাগুচ্ছ

অভিশপ্ত সম্রাট সাতজন্ম তপস্যা করেও তোমাকে পাইনি। ঈশ্বরের অসমাপ্ত ট্রেনে শুয়ে থাকি এখানে জাগাবার কেউ নেই বিদ্যুৎ চমকায়। আধপোড়া। তোমাকে সেঁকবো বলে আগুন সেঁকেনি বহুকাল। শীত ব্যালকনি বাইছে তার গুনাগুন কে বিচার করবে। আক্ষরিক অর্থে মেঘের পদাবলি সব উপন্যাসেই রক্ষণশীল শুধু চারপাশ বরফগোলা নাবিক নাবিক খেলছে।   একটি গুড নাইট কবিতা ঘুমতে যেতে চাই ঘুম আসে না। অল্প মাত্রায় হাহাকার খাই একটু হাঁটাচলা দিই ঘুম পরগনায় তখন জোয়ার শুধু আবছায়ায় মনে পড়ে কাল খুব ভোরে তোমাকে পৌঁছে দিতে হবে।   চিঠি ভিজব বলে কথা দিই ভেজা হয় না। রাখালের মত…

Read More

সুকুমারীকে না-বলা কথা

১ অন্ধকার একটা ঘোড়া ছুটে বেড়াচ্ছে প্রভুর সন্ধানে, মিছে হতে মিছে, এ প্রহেলিকা হতে অন্য প্রহেলিকায়, অন্ধকার একটা ঘোড়ার কেশর থেকে ঘাম ঝরছে এ প্রহেলিকায়, ও প্রহেলিকায় অশ্বক্ষুরের আঘাত ৷ সদ্যমৃত এই মাঠে তুমি যে বারবার ফিরে আসছ আমি তার কতটুকু বুঝি, তবু, চোখ ফেরাতে পারি না; যত বড় জয় তত বৃহৎ ধ্বংসস্তূপ, মাঝরাস্তায় ততবার হারিয়ে যাই, সামান্য এই পথনাটিকায় ৷ ততবার, গণনাসঙ্কুল আমার এ রাত্রিপটমাঝে, দূর হতে শুনি তারে, টিলার ধার বেয়ে ধোঁয়ার মতো উঠে আসছে সে, চোয়ালের কোণ থেকে অবিরাম ফেনা ঝরছে, আমরা মরলোকের শেষ ক্রোশ পেরিয়ে যাচ্ছি…

Read More

রাহুল পুরকায়স্থের কবিতাগুচ্ছ

হেমন্তে লেখা এক মূক ও বধির হাওয়া, নিশীথে পেতেছ বায়ুজাল। আমি ধরা পড়ে গেছি। আমার চশমা দেখি উড়ছে বাতাসে! খরস্রোতা দৃষ্টি আজ ভ্রমের সাঁকোয় দুলে ওঠে ! পারাপার ভাবি তোমাকেই। মক্ষিকাও ভাবি। মাতাল মক্ষিকা। পেরিয়ে অযূত সাঁকো আহত ভাষার কাছে বসি। বলি, আমাকে বিপুল দাও, আমাকে বিনাশ দাও। পাতাল-ধুলোয় অবিনাশী গলিত অক্ষরে যেন ভেসে যেতে পারি। জল দিতে পারি যেন বিষাদের বংশলতিকারে।   হেমন্তে লেখা দুই সব কবিতাই হেমন্তের। ধূসর ঈশ্বরীতলা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এই কথা মনে এল আজ। আবছা সন্ধ্যায় ছায়া-ছায়া চা-দোকান থেকে মৃদু হিম স্বর ভেসে আসছিল। ভেসে…

Read More

সুমন সাধুর কবিতাগুচ্ছ

পৃথিবীর সাতরঙা মাছ আরেকটা কলকাতার হেরে যাওয়া দেখছি আমি। শহীদ মিনার থেকে দেখছি উড়ে চলেছেন প্রেমিক যুগল, ডানা ঝাপটানোয় সামান্য আদানপ্রদান। নাগরিক ম্যানহোল জার্নি, তাতে ডুবে যাওয়া হাসি- সবটাই খেয়ে নেবে রাত-বিছানা। আমরা ঘাঁটি ঘড়ির সেকেণ্ড কাঁটা- সময়োপযোগী বিফ রোলে বেশ ছটফটটি হয়ে তর্কে ওড়াই ধুলো, স্লোগানে হাঁটি আর মিছিলে বুজি ঠোঁট। ট্রান্স আর হিজড়াদের দেখি এক, তফাৎ মানিনা তাদের। স্বপ্ন? ধুস ধুস! যেদিকে মন চায় আমি সেদিকেই হুস। সটান চুমু খেয়ে জাপটে ধরে লজ্জা পাই, নাক লম্বা তাই গলাই। ধর্ম মানিনা, ঈশ্বর মানিনা, এ শহরের ভিড়ে আমরাই কালজয়ী, আমরাই…

Read More

সেখ সাদ্দাম হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

গুজারিশ ১। এ মৃত্যু আমার, এক দীর্ঘ সফর নিজেকে আসমানি ঘুমে ফিরিয়ে দেব তোমার গর্ভে। তোমাদের যুগল তসবিরের কাচে, একদিন ছায়া ফেলবে ঈদের চাঁদ, সন্তানসম্ভবা সেইদিন তুমি আসল নারী, সেইদিন আমাকে বুকে জড়িয়ে আকুল ভালবাসি বলতে চেয়ে তুমি আপন ঢেউয়ে, মহব্বতি নাও ভাসাবে ঘর গোছাবে, টিপ পড়বে, অপেক্ষার দশ মাস দশ দিন ২। তুমি কেবলই আমার– এমন মতলবি শব্দবন্ধের মধ্য দিয়ে তোমায় ভালোবেসে যাচ্ছি এ ভালোবাসার ভিতরে এক বিশাল কান্না আছে। তুমি তাকে সমঝে নিতে চাইছ তুমি তাকে ঘর দিয়েছ অলংকার তালা চাবি, আর আমার কান্নার কাছে আমিও পৌঁছাতে পারিনি…

Read More

তারাধূলিপথ

৮ ভাবছি, একদিন তৃণের আভার পাশে নতজানু আমি—ভেড়াগুলো গুল্মশোর ধরে চলে গেল বাবলার তীরে—যেন এক রুদ্ধদ্বার ঈশান ও নৈঋত কোণে—অশ্রুত সেই কাঠ কী বিপুল একা! ওপারে তোমার বেলাভূমি—শান্ত এক ঢেউ ধুয়ে দিলো তিতির আঙুল:—চিত্রাক্ষীর ছায়া ঘুমিয়েছে পাতার উপর—   এতোটা মরণ নিয়ে কোন ভৈরবী ফিরে যাবে হাওয়ায়—   ৯ ভাবছি, একদিন মহুল নদীর ধারে, ভেড়াগুলো শ্রান্ত হয়ে পানির উপর বিছিয়ে দেবে আত্মার ঢেউ—যখন, শিশুরা পার হয় ঘুম, তৃণের কথোপকথন— ওপারে তোমার বোল—মাধুগাঙে নবমীর পানি—রেণুর কল্লোল, হেলে পড়ছে তিতি ফুলের উপর—এখানে, মধ্যাহ্নের তীরে হায় রু! রূপস মর্মর! চিত্রিত বাতাসের নিচে—  …

Read More

অভি কর্ষিত চারণভূমির ডাইরি

১. তোমার অন্তর্বাসের পরিপূর্ণ জানালা দেখতে চেয়ে যে গূঢ় তত্ত্বের অবতারণা করতে হলো, তার সাথে শুধুমাত্র তৃষ্ণার্ত উটের তুলনা দিতে পারি। যে উট বসতিতে আসামাত্র সমস্ত কুঞ্চিত জন্মদ্বারে লেগে গিয়েছিল অমূলক আগুনের শঙ্কা। শূন্যে ভাসমান প্রতিটি সুস্থ বারান্দা ফিলআপ ছিল দেবতাদের উন্মাদ কলকাকলিতে। উটটির বোধহয় সামান্য বাতজ বেদনার প্রকোপ ছিল। না হলে কেন বলো বারবার অর্ন্তবাসের জানালায় নাক ঠেকিয়ে জেনে নিতে চাইছিল দৈব ওষুধের প্রকরণ ক্রিয়া।   ২. কার্যত প্লেজ়িয়ারিজমের ঘনত্ব অনুধাবন করা আকাটা হীরকখন্ডের মতো কঠিন। সুবাতাস এড়িয়ে ঘৃত ও গব্য চর্চিত বাঁশ দিয়ে ঠেলে তোলা মাংসের বস্তুবাদ তোমার…

Read More

জ্যোতির্ময় মুখার্জির কবিতাগুচ্ছ

শেষ ডুবুরি যখন দিগন্ত হয়ে যায় পালক, তুমি দোষারোপ করো না এই তো দেখো কেমন কাঁধ ছুঁয়ে আছে আশ্রয় এইভাবে মুহূর্তরা নদী হতে পারে এইসব জীর্ণ রুমাল, তবু কী আশ্চর্য দূরের নৌকারা আলাপচারিতায় ডেকে নিলো আমাকে এসো আমরা দুজন আজ ডুবুরি হয়ে যাই সেই শেষ ডুবুরি, যে মুক্তো খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে গেছিল পাথর-খাঁজে   এইসব হাসি ও প্রার্থনা এইসব হাসি ও প্রার্থনা, মৃত হতে হতে পাখি হয়ে গেলে, দীর্ঘ সাঁকোর উপর জেগে থাকে ভয়। অবিরাম ধাক্কা মারছে হাত। ভিতরে ও বাইরে দরজা ঠেলে ঠেলে হেঁটে যাচ্ছে কিছু মানুষ। ওদের সন্ততি…

Read More

ভোরের প্রথম পঙ্‌ক্তি

১ আমার ভাষায় আমি নেই, শুধু আমার বিভ্রম। বালির চিৎকার সারা দিন। তবে কি তোমার দিকে যাব? উঁচু-নীচু টিলার ওপারে কার মন? এখানে নিজের ছায়া দীর্ঘতম। সন্ধ্যার আকাশ মৃত্যুপথযাত্রী এক শ্বাপদের মতো জল খেতে দিগন্তে নেমেছে।   ২ থাকো তুমি পতঙ্গ-নজরে সে কোন্‌ বৃষ্টিতে কালো ডাল নাকি পাতা থেকে তোমাকে সবুজ চোখে দেখছিল,হঠাৎ গিরগিটি পেছনে এসে লকলকে আঠালো জিভ হেনেছে বাতাসে তোমার থাকার জায়গা না থাকলে কোথায় থাকো তুমি?   ৩ গলা ফাটিয়ে স্বরের বুনো শেকড় নেমেছে পুরোনো বাড়ির শব্দ- খসে-পড়া দৃষ্টি ঘর চৌকাঠ পেরিয়ে চলে গেছে   ৪ বালিশ…

Read More

সেলাই অঞ্চল

১ সন্ধে একটা বানানের নাম, যার মেরুন বোতাম একসময় সাদা শার্ট থেকে হারিয়ে যায়, পড়ে থাকে তিন-চার রকমের গোধূলি সন্ধে এমন কোনও মাতৃতান্ত্রিক যখন ফিরে আসাটা অভ্যেস, বাড়ি না থাকলেও বাড়ি না থাকলেও তুমি ডানা ভাববে, আর ঠিক নেমে আসবে প্রসারিত সন্ধে হাওয়ার কসম। আমরা একদিন ঠিক সন্ধে খাবো তারপর ছোটো ছোটো নুড়ি জল দিয়ে গিলে নেব, প্রকৃত পরিপাকের জন্য এভাবেই আমরা একদিন ঠিক সামুদ্রিক হব, একটা নির্ভুল সন্ধের জন্য ২ আমাদের বিস্ময়গুলো ক্রমাগত এক একটা কাচের গ্লাসের নির্দয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে, তৃষ্ণাহীন। তুমি তো টেবিল, তুমি তো টেবিলের সম্পর্কিত…

Read More

শৈবাল সরকারের কবিতাগুচ্ছ

পাতার উল্টো দিকের লেখা। ১. খাঁচা খুলে দিলে প্রথমে স্বাধীন হয় চোখদুটো। তারপর তোমাকে একলা রেখে তারা উড়ে যায় তোমার দু’দিকে। বহু মহাকাশ পরে এক বৃষ্টির রাতে তাদের পাঠানো গান এখন তুমি সাজিয়ে রাখছো আয়ুর দু’দিকে। ২. কাগজের উল্টো দিকের লেখা এখানে ফুটে উঠছে। এইটুকু দেখতে পেয়ে তুমি উড়ে যাওয়ার মতো হয়ে যাও। পাতার উল্টো দিকে আরও একটা কেউ আটকে থাকে একটা কলম ধরে। তার সারা শরীর ধীরে ধীরে মহাকাশ শুষে নিচ্ছে কাছে। ৩. আমরা কথা শুরু করলেই দু’জনের মুখ থেকে একটা করে প্রজাপতি বেরিয়ে আসে। এসেই ঝাঁপিয়ে পড়ে একে…

Read More

দেবব্রত কর বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ

গাছের কবিতা ১. আজকাল গাছের পাশে রাস্তা ফুটে উঠতে দেখি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছেদের হা-হুতাশ কীভাবে ফুল হয়ে ঝরে পড়ে, দেখি। আমার আর কিছুই ভালো লাগে না। মনে হয়, দূরে দেশ বাড়ছে সন্ত্রাসের স্বপ্নে। সে ঘুম আমার নয়, আমি জেগে থাকি এমন এমন সব কথা আসে মাথায়, যা আমার বয়সে বেশ বেমানান, যেমন মৃত্যু। গাছের মৃত্যুর কথা মনে এলে খাতার মুখ মনে পড়ে আমি তার কেউ নই, কিছুই নই। লাইনের পর লাইন জুড়ে রাস্তা সেজে থাকি। গতজন্মের গাছের ছায়া পড়ে, আমার শরীরে।   ২. সাধু যে কোথা থেকে এসেছেন…

Read More

সঙ্ঘমিত্রা হালদারের কবিতাগুচ্ছ

ভেংচি পুরোটা মনে আসছ না, তবে পেশীতে, শরীরে? অন্তত কোনও ভাঁজে ঢেউ কিংবা খাদের মতো অপেক্ষা করছ? নেই হাওয়ায় পাতা নড়লে, ভূত নয়, নিজেকে কিংবদন্তী লাগে ও উহ্য তোমাকে রপ্ত করবার আকাঙ্ক্ষায় থাকি চারিদিকে চরিত্ররা বাজারে যায়, পার্স খোয়ায় এসে দেখি বাঁকের কাছাকাছি কেউ বা হাঁটা নকল করছে তোমার অনুসরণ করার দূরত্বে এলে দেখি কোথাও আসল নেই তোমার তুমি-ই নেই এই লেখাটুকু হবে বলে পেশীতে বসে ভেংচি কাটছিলে   শব্দের বদলে শব্দের বদলে মুখ থেকে উঠে আসছে থকথকে কাদা একমনে কোনও অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের বাগান থেকে উঠে আসছে প্রিয় কলহ যার…

Read More

অনিমিখ পাত্রের কবিতাগুচ্ছ

কবিতা কত পাতা নড়বো হাওয়ায় কত ফল পড়ে যাবো, গায়ে লেখা থাকবে অবিমৃষ্যকারী এক পাখি বসন্তে তো অন্য পাখি ঠুকরে খায় প্রিয় মার্চ মাস হাওয়ায় গর্ত করে ঢুকে পড়ে দূরদেশে ভ্রমণের কথা বাপ রে! লাইন দেখে কেটেছি এক্কেবারে সিজন টিকিট আমি ঋতুবদলের পুরনো গ্রাহক। ফলে বাড়তি সময় পেয়ে যথাসাধ্য কবিতার চেষ্টা করে থাকি।   কাহিনি দায়সারা একটা রোদ এসে জীবনের কিছুটা দেখাল তখন তো সারা বাড়ি কী হয় কী হয় ভাবে থমথম করছে আর সেই রোদে উড়ে এসে জুড়ে বসল দু’চারটি সন্দেহের পাখি কাহিনি এবার শুরু – এরকম ঘোষণাও দিয়ে…

Read More

সৈকত সরকারের কবিতাগুচ্ছ

একাদশী ও ম্যালিগন্যান্ট ভোর ১. লোহা ছুঁয়ে থাকলে রাতের পরব গায়ে লাগে না। টেম্পোর খোলা মঞ্চে তখন মড়া নিয়ে তুমুল মোচ্ছব পয়সায় পয়সায় টোকা লেগে তাল দিচ্ছে শোকের বিতানে লোহা ছুঁয়ে আছি সশস্ত্র লোহার কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে? যেমন আলোর থাকে কাফের মাড়ানো অপরাধ   ২. গুলমোহরের শুভেচ্ছা পৌঁছতে দেরি হয় বর্ষার ছবিও তো হরিদ্রাভ তোমারই রঙের ফুলদানির কৌলীন্য মেখে যেসব মরশুমি লেখাগুলো হেঁটে গেছে কলম উঁচিয়ে তুমি তার প্রুফ-না-দেখা প্রমাদ প্রতি সৌজন্য সংখ্যায় কেমন চড়ুই-সমারোহে ফুরিয়ে যাও শোকের মতন!   ৩. হাত পা ছড়ানো কিছু আকার দিতে গিয়ে প্যাস্টেল…

Read More

মনোজ দে’র গুচ্ছ কবিতা

গজদন্তের মেয়ে ১. যেন সেনাপতি, কোনো এক কোন ঘেঁষে এগিয়ে, উজ্জ্বল; যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুত রমণী ভাবছি সমর্পন করবো। প্রতিকীর সামনে দাঁড়িয়ে বলবো, কবুল, কবুল, কবুল ২. মাঝে মাঝে নিজেকে অদ্ভুত লাগে সব অভিযোগ জড়ো করি; সেরে উঠব ভাবি সচেতন যুবক হিসাবে জানানো জরুরি তোমার হাসির আরও ভেতরের কোণে রাখা আছে পুরুষের ছোঁয়াচে অসুখ ৩. জ্বর নয়। এ এক অদ্ভুত স্বপ্নদোষ তাড়া করে; ঘুমোতে পারি না বেশিক্ষণ আবহাওয়া থমথমে। তোমাকে দেখার পর যেকোনো স্বাভাবিকতায় ঈষৎ ভিজে যায় ৪. সাদা সংলাপ, পাতার পর পাতা; মনে হয় জ্বরের ওষুধ; আমাদের অবয়ব জুড়ে শুয়ে বন্ধু…

Read More

দুর্জয় আশরাফুল ইসলামের গুচ্ছ কবিতা

ভিটে-বাড়ি যে কোন জলদিঘিকে মনে হয় কবিতায় ছুঁয়ে আছে আর যে হাঁসেরা খেলা করে অলস দুপুরবেলা তাদের আঙুলের মাপ নেবে বলে থরথর করে জল নামছে নরম রোদের ভেতর এই স্মারকচিহ্নের খেলা চলে – ছায়ামেঘ দূরে বসে থাকে অপেক্ষায়, কখন বাঁশিতে সুর তুলতে তুলতে আলস্য গাঢ় হয়, পৃথিবী ঘুম যায়; যে কোন চোখের গল্পে হরিণ মূর্তি নামে, দাবাঘর ঘিরে স্তব্ধতা যেরকম। অতীতের প্রেমিকেরা আজ কোথায়, হাতপাখার বুননে যে গ্রীষ্মকাল তার উত্তাপ থেকে সরে বৃষ্টিমণ্ডলের দেশে? নড়ে ওঠে বন্ধ্যা বাতাবিলেবু গাছ, কোন খোঁজ নেই, শুধু জানি খুঁড়তে জানলে আজও পাওয়া যেতে পারে…

Read More

শুভম চক্রবর্তীর গুচ্ছ কবিতা

নির্মাণ আমার শরীর নেই আমি থাকি কিছুটা শরীরে বাকি সব ঝুলকালি কুয়াশা কুয়াশা বোঝাপড়া তোমার শরীর ছুঁয়ে ফিরে এসে মনে হয় আসলে শরীর নেই যা আছে ভীষণ মনগড়া !   সংকেত নৈ:শব্দ কিছুই নয় ঝিম হয়ে রয়েছ আড়ালে শুকনো পাতারা দূরে ঝরে ঝরে ক্ষয়ে গেল আয়ু নৈঃশব্দ কিছুই নয় মর্মগহীনের নিচে থেঁতলে যাওয়া কিছু বাদাবন আমার আরতি জাগে প্রত্যেক মায়াবী ঘোরে নৈঃশব্দ কিছুই নয় একটি রমণ ভেঙে অসংখ্য রমণ…   সংলাপ ছোবল মারোনি তাই প্রতি রাতে আক্ষেপ বেড়েছে ছোবল মারোনি তবু অতিবিষে নীল হয়ে যাই তোমার ফাটানো জিভ অতিচেতনার কালো…

Read More

গুচ্ছ কবিতা

 স্বপ্ন ও আয়ু এক টুকরো স্বপ্নের ভেতরে দেখা গেল আয়ু আমার বেশী নেই, অতএব আমাকে আরও বেশী করে কাজ দ্রুত করে ফেলতে হবে, না কি আরও বেশী করে ঢুকে যেতে হবে স্বপ্নের ভেতর? কেননা সেখানে আয়ুস্কাল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, সেখানে সকালের তাড়াহুড়ো, অন্যথায় চোখের বাইরে তো সব যে কে সেই, স্রোতের পরে স্রোত বাজে বকা অনন্ত ঢিলেমি চোখের খোলা বন্ধের মধ্যে যাতায়াত আমাকে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নটির শেষে, রুমালের সাইজের স্বপ্নে সকলেরই হাতের কাজগুলো সেরে নেবার তাড়া, কেননা এখনও হাতের পুত্তলিটির ভেতরে প্রাণ ফুঁকে দেওয়া হয়নি এখনও পিতা ও তাদের উর্ধতন…

Read More