কবিতাগুচ্ছ

একটি মার্জার ও ক্ষুধা ১. অবশেষে একটি মার্জার ডিঙাইয়া গেল আমার লেখা। আমার কবিতাগাড়ির কতটা বিপদ হইতে পারে তাহা দেখিবার জন্য আমিও উন্মুখ হইয়া আছি বহুকাল হইতে । একটি খতরনাক পরিবেশনার জন্য আমার মনন আমাকে বেপথে চালিত করে ।ক্রমশ একটি দুর্ঘটনার দিকে একটি ঘাট হইতে আঘাটার দিকে অচেনা তড়িৎ চুম্বকীয় বলের দ্বারা আমি পরিচালিত হইতে লাগিলাম। আমার আজীবন শব্দ সঞ্চয় নিজেরাই যুক্ত ও বিযুক্ত হইতে আরম্ভ করিলে আমার চালিকা শক্তি ক্ষীণ হইয়া আসে। অদৃষ্টের উপর ছাড়িয়া দিলেও স্টিয়ারিং কোনোক্রমে তখনো হাতে । ভাবিয়া চলিতেছি যাহা এতদিন আমার কব্জির মোচড় দিয়া…

Read More

শাশ্বতী সরকারের কবিতাগুচ্ছ

১.  আজ তুমি আমাকে কী কথা বা মনে করাবে? কোন কাজ বাকি রয়ে গ্যাছে? অন্য দেশ, অন্য নগর-গ্রাম, ভুল পিনকোড আসন্ন সমুদ্রে রাত কাটে, দিনগুলি বেলা হলে দূরে চলে যায় আরও দূরে নক্ষত্রবীথিটি, বজ্র এসে দাগ কাটল–সে দিবাবসানে তোমার পিঠের ‘পরে মনে করো নখরাভিঘাত… চিনেবাদামের খোসা উড়েছে অঢেল, নীলাভ জঙ্গল–তাকে খুঁজে নিতে গেছি তোমার কোলের কাছে পড়ে আছে হাত, ঢেউয়ে বিক্ষত সেই হাত-কে জাগাও? এখন, অন্য কোথাও যাওয়া রোদে সাঁতলানো ভাতের থালার পাশে গেরস্থ ছবিটি আমার মুখের পাশে চুল তোমার কাঁধেও গতচুম্বনের জ্বালা, দাগ আজ তুমি ফের বলো কী মনে…

Read More

শৈলেন চৌনীর কবিতাগুচ্ছ

লবণহীন বাকি বয়স লবণের দাগ। ভীতু ফুল। আর সমাপতনের ভেতর সংশয়ী রেণু ফেটে পড়েছে অযুত। হ্যালুশিনেশন ঘেরা আমিই তোমার সেই প্রথম অভব্য। পশমের বিপরীতে ক্রমাগত লাল হচ্ছে শালগ্রাম শিলা। সাদা পাতাটির মাঝে তুমিও পেরিয়ে গেলে আমি নীল শোকে রেখে যাই তোমার বয়স…   তদন্ত আশাহত চিরুনি। তদন্ত করি রোজ, নাড়ি থেমে গেছে, আহা বিভ্রম! ছুরির গায়ে মরিচের দাগ, চমৎকার মৃত্যুর পাশে সমস্ত পরিকল্পনা, ঋজু স্মৃতির দিন… থেমে থেমে উর্বর হয় পাড়ি, প্যাডেলের বীজগণিত — একমাত্র তুমিই জানো, হে আততায়ী বালিকা, রি-সাইকেল বিন থেকে উদ্ধারের পদ্ধতি!   ফাঁসুড়ে কারা যেন শিস্…

Read More

হিয়া মুখোপাধ্যায়ের কবিতাগুচ্ছ

মন্টানা হোমস্টে ১. সরলরেখার মত দিনগুলো কাটছে৷ অনুত্তেজক। অনুশোচনাহীন। মাঝেমধ্যে টুপটাপ রক্তপাত। সেটুকু অভিপ্রেত। বাকিটা ঘুমঘুম কমফর্টার। রোদে জড়ানো ফার্নে বিকেলের ছায়া দোলে। মৃদু পোর্সিলিনের নীচে বসে ছড়া গাঁথার দিন এসব। শিস দিতে দিতে টি এস্টেটের আলোগুলো একে একে নিভিয়ে দেওয়ার দিন। আপাতত সব ঠান্ডা। দু একবার শিরশিরে হাওয়া দিলে শুধু সবার অলক্ষ্যে ট্যাবলেটের ভাষায় তুমি জানি কাকে ডেকে উঠছো।   ২. আবার এসেছো তুমি বিষণ্ণ গ্রীলের পাশে। অতর্কিতে আবার দাঁড়িয়েছো হা হা করা খাদের পাঁচিলে। হাওয়ায় পাইন দুলছে। নিভু নিভু শ্রমিক কলোনী। দূরদূরান্ত অব্দি কেউ নেই, শুধু একা তুমি।…

Read More

পাখিজগত

১ মাঘমাসে বৃষ্টি-বৃষ্টি মাত্রা গুনে খুন-জখম হলো লতানে শিরা থেকে গাছ, গাছের টুনিবাল্ব পাতায় শুকনো মুখটুকু পড়ে আছে বিবর্ণ আনাজদাগে স্থির টাটকা খয়েরি দেহ থেকে ছিন্ন তুলে নেব তাকে ? আমি যে তার শেকল সেটা বুঝিনি, শঙ্খপুষ্পে বাতাস আলো কেটে-কেটে সারাবেলা পাখিজগত হাসি ঠিক বুঝতে পারিনি তাও, মনে হয় ব্লেডের কৌশলে তবু কয়েকটি কাঁপা-কাঁপা রেখা রক্তপ্রবাহে আঙুলের ফিতে ।। ২ টুনিবাল্ব মুখে পুরে বলেছিলাম এই হল উপগ্রহ মাঝারি চাপে ভেঙে..গিলে নাও অশ্রুবিগলিত শহর কাঁচের জমাট ক্লাস্টার বিসর্পিণী জিভের মায়া লালাভর্তি পৃথিবীতে তোমার স্বর অন্ধকার বাঁকা ইলেক্ট্রিক এক-একটি অনুস্বার তন্তু ছিঁড়ে-ছিঁড়ে…

Read More

প্রায়োপবেশন

১ কিশোর ফ্ল্যাটবাড়ি দুমড়ে নামিয়ে এনেছে যে অংশ আকাশ, অপ্রাপ্ত জলের যে পূর্ণ, তার উদ্দেশ্যে বৈধ দিই ধৃত বাহিরখন্ড নগ্ন জল্লাদের চিরউত্থিত সবক’টি। এক এক করে প্ল্যাটফর্ম ছুঁয়ে কাম্য অবশেষ এলে বন্ধু বকবক জেগে ওঠে। চতুর কামদানী উপচে গেলেও শব্দ করে না। ওই চিত্তে অসংজ্ঞাত ফিল্টার জেগে আছে ৷   ২ ইদানীংনাম্নীটি উপেক্ষিতা হলে পাপ হয় সবেধন এক্সকিউজ থেকে ফুলকি উড়ে যায় যেন তার যমজ হয়েছে। যমজ আমাদের এই মৌচাকের গোপনতমে যত্ন করে রাখা। চিবুকে পলাশ ঢাকা যেন তার ঔরসে ধুলো না পড়ে। তাও পড়ে আমরা সেতু ভাঙতে ভাঙতে এতসর্বস্ব…

Read More

নিম অন্নপূর্ণা সিরিজ

এক তুমি যদি জানো ভুল, তাহলে ঈশ্বর বাড়িতে অনুসরণ করবে না। ঈশ্বরের নক্ষত্র পতনের দিনক্ষণ ভ্রষ্ট হয় না। আমাদের মধ্যে অনেক ছোট ছোট বিশ্বাসঘাতকতা আছে। একটি বিশ্বাসঘাতকতা যে ভঙ্গুর, ক্রমে বিরতি দেয়… ভয়াবহ ত্রুটি চিৎকার করে পাঠালে, ভাঙা আলিঙ্গনে। আলিঙ্গনের মাধ্যমে খেলা আউট, ঝড়। এবং প্রত্যেক খেলা শেষে আত্মার প্যারেড। কিন্তু তুমি যদি সার্কাস ভাবো, ভাণ করো শরীর, তবে যাত্রীবাহী পথটি খুঁজে পাবে না। আমি নিষ্ঠুর এবং সম্ভবত সব নিষ্ঠুরতার জন্য কী ঘটে, জানি না সত্য। তাই একটি অস্থিরতার আবেদন, কিছু ছায়া নয়, মায়া। যদিও আমরা একে অপরকে বোকা বানাতে…

Read More

শুভ আঢ্যর কবিতাগুচ্ছ

ম্যাড মঙ্ক  ১. ঘর পেরিয়ে যাও তোমরা, আর আমার ভেতর দাঁড়াও, আমিই এক পথ, যে পথে তোমাদের আসা যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়টুকু আলো পায় এই সরাইখানায় তোমাদের স্বাগত, এই স্যাঁতস্যাঁতে প্রায়ান্ধকার ঘর তোমাদের কনফেশন রুম, এই ঘর তোমরা পেরোতে পেরোতে রাশিয়ার মানচিত্র পেরিয়ে গ্রীসের দিকে চলে যাও, সেই অর্থোডক্স গির্জায় অতএব, পবিত্রকরণ… এই দেহের ভেতর বোকা গ্রিশকা ধারণ করেছে কত আত্মা, তার চৌখুপি ভরে উঠেছে কথায়, অথচ যাকে তোমরা বিশ্বাস করছো, সে তোমাদের তামার থালার ভেতরে দস্তাটুকু ভরে দেবে এমন সংশয় তোমাদের হয় না, হাঃ, ধর্ম অন্ধ, এই কৃষকশ্রেণীর অতীন্দ্রিয়তা তোমরা…

Read More

ব্যক্তিগত কান্নার নিকটে

১. এমন হাতের টান; মনে হয় লিপিটি অস্থির যেন কিছু কাঠুরিয়া সার বেঁধে সারি সারি গাছে কুঠার বসিয়ে দিচ্ছে, অবিশ্বাস্য হরফের ভিড়ে পাঠে ব্যর্থ কোন এক পুরুষের দৃষ্টি জমে আছে ২. এখানে বিকেল, গায়ে হলুদ আলোয় ম্রিয়মাণ; গান নিয়ে ঘুরে ফেরে, সমুদ্রের পাড় বরাবর, ক্রেতা-বিক্রেতা, ঢেউ, মদ, ছুটি, লৌকিক চা-পান মানুষের ছাপ নেই, বহুদিন বালির ওপর ৩. সে কিসের স্মৃতি, যার সাথে তুমি তুলনামূলক দুঃখ-মুহূর্তে তাকে রোমন্থন করে কোনদিন ভেবেছি উপায় হবে, অতঃপর মন্ত্রমুগ্ধবৎ আনন্দের ক্ষণগুলি হয়ে গেছে দুঃখের অধীন। ৪. তবুও বিশ্রাম পেলে মগজ পুনর্পাঠে ডোবে উতল ছটফটানি-দৃশ্যকে থামিয়ে…

Read More

নবকুমার পোদ্দারের কবিতাগুচ্ছ

অভিশপ্ত সম্রাট সাতজন্ম তপস্যা করেও তোমাকে পাইনি। ঈশ্বরের অসমাপ্ত ট্রেনে শুয়ে থাকি এখানে জাগাবার কেউ নেই বিদ্যুৎ চমকায়। আধপোড়া। তোমাকে সেঁকবো বলে আগুন সেঁকেনি বহুকাল। শীত ব্যালকনি বাইছে তার গুনাগুন কে বিচার করবে। আক্ষরিক অর্থে মেঘের পদাবলি সব উপন্যাসেই রক্ষণশীল শুধু চারপাশ বরফগোলা নাবিক নাবিক খেলছে।   একটি গুড নাইট কবিতা ঘুমতে যেতে চাই ঘুম আসে না। অল্প মাত্রায় হাহাকার খাই একটু হাঁটাচলা দিই ঘুম পরগনায় তখন জোয়ার শুধু আবছায়ায় মনে পড়ে কাল খুব ভোরে তোমাকে পৌঁছে দিতে হবে।   চিঠি ভিজব বলে কথা দিই ভেজা হয় না। রাখালের মত…

Read More

সুকুমারীকে না-বলা কথা

১ অন্ধকার একটা ঘোড়া ছুটে বেড়াচ্ছে প্রভুর সন্ধানে, মিছে হতে মিছে, এ প্রহেলিকা হতে অন্য প্রহেলিকায়, অন্ধকার একটা ঘোড়ার কেশর থেকে ঘাম ঝরছে এ প্রহেলিকায়, ও প্রহেলিকায় অশ্বক্ষুরের আঘাত ৷ সদ্যমৃত এই মাঠে তুমি যে বারবার ফিরে আসছ আমি তার কতটুকু বুঝি, তবু, চোখ ফেরাতে পারি না; যত বড় জয় তত বৃহৎ ধ্বংসস্তূপ, মাঝরাস্তায় ততবার হারিয়ে যাই, সামান্য এই পথনাটিকায় ৷ ততবার, গণনাসঙ্কুল আমার এ রাত্রিপটমাঝে, দূর হতে শুনি তারে, টিলার ধার বেয়ে ধোঁয়ার মতো উঠে আসছে সে, চোয়ালের কোণ থেকে অবিরাম ফেনা ঝরছে, আমরা মরলোকের শেষ ক্রোশ পেরিয়ে যাচ্ছি…

Read More

রাহুল পুরকায়স্থের কবিতাগুচ্ছ

হেমন্তে লেখা এক মূক ও বধির হাওয়া, নিশীথে পেতেছ বায়ুজাল। আমি ধরা পড়ে গেছি। আমার চশমা দেখি উড়ছে বাতাসে! খরস্রোতা দৃষ্টি আজ ভ্রমের সাঁকোয় দুলে ওঠে ! পারাপার ভাবি তোমাকেই। মক্ষিকাও ভাবি। মাতাল মক্ষিকা। পেরিয়ে অযূত সাঁকো আহত ভাষার কাছে বসি। বলি, আমাকে বিপুল দাও, আমাকে বিনাশ দাও। পাতাল-ধুলোয় অবিনাশী গলিত অক্ষরে যেন ভেসে যেতে পারি। জল দিতে পারি যেন বিষাদের বংশলতিকারে।   হেমন্তে লেখা দুই সব কবিতাই হেমন্তের। ধূসর ঈশ্বরীতলা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এই কথা মনে এল আজ। আবছা সন্ধ্যায় ছায়া-ছায়া চা-দোকান থেকে মৃদু হিম স্বর ভেসে আসছিল। ভেসে…

Read More

সুমন সাধুর কবিতাগুচ্ছ

পৃথিবীর সাতরঙা মাছ আরেকটা কলকাতার হেরে যাওয়া দেখছি আমি। শহীদ মিনার থেকে দেখছি উড়ে চলেছেন প্রেমিক যুগল, ডানা ঝাপটানোয় সামান্য আদানপ্রদান। নাগরিক ম্যানহোল জার্নি, তাতে ডুবে যাওয়া হাসি- সবটাই খেয়ে নেবে রাত-বিছানা। আমরা ঘাঁটি ঘড়ির সেকেণ্ড কাঁটা- সময়োপযোগী বিফ রোলে বেশ ছটফটটি হয়ে তর্কে ওড়াই ধুলো, স্লোগানে হাঁটি আর মিছিলে বুজি ঠোঁট। ট্রান্স আর হিজড়াদের দেখি এক, তফাৎ মানিনা তাদের। স্বপ্ন? ধুস ধুস! যেদিকে মন চায় আমি সেদিকেই হুস। সটান চুমু খেয়ে জাপটে ধরে লজ্জা পাই, নাক লম্বা তাই গলাই। ধর্ম মানিনা, ঈশ্বর মানিনা, এ শহরের ভিড়ে আমরাই কালজয়ী, আমরাই…

Read More

সেখ সাদ্দাম হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

গুজারিশ ১। এ মৃত্যু আমার, এক দীর্ঘ সফর নিজেকে আসমানি ঘুমে ফিরিয়ে দেব তোমার গর্ভে। তোমাদের যুগল তসবিরের কাচে, একদিন ছায়া ফেলবে ঈদের চাঁদ, সন্তানসম্ভবা সেইদিন তুমি আসল নারী, সেইদিন আমাকে বুকে জড়িয়ে আকুল ভালবাসি বলতে চেয়ে তুমি আপন ঢেউয়ে, মহব্বতি নাও ভাসাবে ঘর গোছাবে, টিপ পড়বে, অপেক্ষার দশ মাস দশ দিন ২। তুমি কেবলই আমার– এমন মতলবি শব্দবন্ধের মধ্য দিয়ে তোমায় ভালোবেসে যাচ্ছি এ ভালোবাসার ভিতরে এক বিশাল কান্না আছে। তুমি তাকে সমঝে নিতে চাইছ তুমি তাকে ঘর দিয়েছ অলংকার তালা চাবি, আর আমার কান্নার কাছে আমিও পৌঁছাতে পারিনি…

Read More

তারাধূলিপথ

৮ ভাবছি, একদিন তৃণের আভার পাশে নতজানু আমি—ভেড়াগুলো গুল্মশোর ধরে চলে গেল বাবলার তীরে—যেন এক রুদ্ধদ্বার ঈশান ও নৈঋত কোণে—অশ্রুত সেই কাঠ কী বিপুল একা! ওপারে তোমার বেলাভূমি—শান্ত এক ঢেউ ধুয়ে দিলো তিতির আঙুল:—চিত্রাক্ষীর ছায়া ঘুমিয়েছে পাতার উপর—   এতোটা মরণ নিয়ে কোন ভৈরবী ফিরে যাবে হাওয়ায়—   ৯ ভাবছি, একদিন মহুল নদীর ধারে, ভেড়াগুলো শ্রান্ত হয়ে পানির উপর বিছিয়ে দেবে আত্মার ঢেউ—যখন, শিশুরা পার হয় ঘুম, তৃণের কথোপকথন— ওপারে তোমার বোল—মাধুগাঙে নবমীর পানি—রেণুর কল্লোল, হেলে পড়ছে তিতি ফুলের উপর—এখানে, মধ্যাহ্নের তীরে হায় রু! রূপস মর্মর! চিত্রিত বাতাসের নিচে—  …

Read More

অভি কর্ষিত চারণভূমির ডাইরি

১. তোমার অন্তর্বাসের পরিপূর্ণ জানালা দেখতে চেয়ে যে গূঢ় তত্ত্বের অবতারণা করতে হলো, তার সাথে শুধুমাত্র তৃষ্ণার্ত উটের তুলনা দিতে পারি। যে উট বসতিতে আসামাত্র সমস্ত কুঞ্চিত জন্মদ্বারে লেগে গিয়েছিল অমূলক আগুনের শঙ্কা। শূন্যে ভাসমান প্রতিটি সুস্থ বারান্দা ফিলআপ ছিল দেবতাদের উন্মাদ কলকাকলিতে। উটটির বোধহয় সামান্য বাতজ বেদনার প্রকোপ ছিল। না হলে কেন বলো বারবার অর্ন্তবাসের জানালায় নাক ঠেকিয়ে জেনে নিতে চাইছিল দৈব ওষুধের প্রকরণ ক্রিয়া।   ২. কার্যত প্লেজ়িয়ারিজমের ঘনত্ব অনুধাবন করা আকাটা হীরকখন্ডের মতো কঠিন। সুবাতাস এড়িয়ে ঘৃত ও গব্য চর্চিত বাঁশ দিয়ে ঠেলে তোলা মাংসের বস্তুবাদ তোমার…

Read More

জ্যোতির্ময় মুখার্জির কবিতাগুচ্ছ

শেষ ডুবুরি যখন দিগন্ত হয়ে যায় পালক, তুমি দোষারোপ করো না এই তো দেখো কেমন কাঁধ ছুঁয়ে আছে আশ্রয় এইভাবে মুহূর্তরা নদী হতে পারে এইসব জীর্ণ রুমাল, তবু কী আশ্চর্য দূরের নৌকারা আলাপচারিতায় ডেকে নিলো আমাকে এসো আমরা দুজন আজ ডুবুরি হয়ে যাই সেই শেষ ডুবুরি, যে মুক্তো খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে গেছিল পাথর-খাঁজে   এইসব হাসি ও প্রার্থনা এইসব হাসি ও প্রার্থনা, মৃত হতে হতে পাখি হয়ে গেলে, দীর্ঘ সাঁকোর উপর জেগে থাকে ভয়। অবিরাম ধাক্কা মারছে হাত। ভিতরে ও বাইরে দরজা ঠেলে ঠেলে হেঁটে যাচ্ছে কিছু মানুষ। ওদের সন্ততি…

Read More

ভোরের প্রথম পঙ্‌ক্তি

১ আমার ভাষায় আমি নেই, শুধু আমার বিভ্রম। বালির চিৎকার সারা দিন। তবে কি তোমার দিকে যাব? উঁচু-নীচু টিলার ওপারে কার মন? এখানে নিজের ছায়া দীর্ঘতম। সন্ধ্যার আকাশ মৃত্যুপথযাত্রী এক শ্বাপদের মতো জল খেতে দিগন্তে নেমেছে।   ২ থাকো তুমি পতঙ্গ-নজরে সে কোন্‌ বৃষ্টিতে কালো ডাল নাকি পাতা থেকে তোমাকে সবুজ চোখে দেখছিল,হঠাৎ গিরগিটি পেছনে এসে লকলকে আঠালো জিভ হেনেছে বাতাসে তোমার থাকার জায়গা না থাকলে কোথায় থাকো তুমি?   ৩ গলা ফাটিয়ে স্বরের বুনো শেকড় নেমেছে পুরোনো বাড়ির শব্দ- খসে-পড়া দৃষ্টি ঘর চৌকাঠ পেরিয়ে চলে গেছে   ৪ বালিশ…

Read More

সেলাই অঞ্চল

১ সন্ধে একটা বানানের নাম, যার মেরুন বোতাম একসময় সাদা শার্ট থেকে হারিয়ে যায়, পড়ে থাকে তিন-চার রকমের গোধূলি সন্ধে এমন কোনও মাতৃতান্ত্রিক যখন ফিরে আসাটা অভ্যেস, বাড়ি না থাকলেও বাড়ি না থাকলেও তুমি ডানা ভাববে, আর ঠিক নেমে আসবে প্রসারিত সন্ধে হাওয়ার কসম। আমরা একদিন ঠিক সন্ধে খাবো তারপর ছোটো ছোটো নুড়ি জল দিয়ে গিলে নেব, প্রকৃত পরিপাকের জন্য এভাবেই আমরা একদিন ঠিক সামুদ্রিক হব, একটা নির্ভুল সন্ধের জন্য ২ আমাদের বিস্ময়গুলো ক্রমাগত এক একটা কাচের গ্লাসের নির্দয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে, তৃষ্ণাহীন। তুমি তো টেবিল, তুমি তো টেবিলের সম্পর্কিত…

Read More

শৈবাল সরকারের কবিতাগুচ্ছ

পাতার উল্টো দিকের লেখা। ১. খাঁচা খুলে দিলে প্রথমে স্বাধীন হয় চোখদুটো। তারপর তোমাকে একলা রেখে তারা উড়ে যায় তোমার দু’দিকে। বহু মহাকাশ পরে এক বৃষ্টির রাতে তাদের পাঠানো গান এখন তুমি সাজিয়ে রাখছো আয়ুর দু’দিকে। ২. কাগজের উল্টো দিকের লেখা এখানে ফুটে উঠছে। এইটুকু দেখতে পেয়ে তুমি উড়ে যাওয়ার মতো হয়ে যাও। পাতার উল্টো দিকে আরও একটা কেউ আটকে থাকে একটা কলম ধরে। তার সারা শরীর ধীরে ধীরে মহাকাশ শুষে নিচ্ছে কাছে। ৩. আমরা কথা শুরু করলেই দু’জনের মুখ থেকে একটা করে প্রজাপতি বেরিয়ে আসে। এসেই ঝাঁপিয়ে পড়ে একে…

Read More