তথাগত’র কবিতাগুচ্ছ

অহরহ দেবতা আমার ১. কিচ্ছু লিখছি না। হে নাথ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ঘটে গেলে পরে কিছুই লেখেনি কোনো কবি। হৈমন্তী বা চৈতি – ফসলের এই সুমধুর নামগুলো মানুষের ভাষা থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে। কে লেখে? কী লেখে? সমুহ মাত্রাগণনা রীতি মান্য করে তারা ভুল লেখে, মিথ্যে কথা লেখে। ভুল আশা ভুল দ্রোহ ভুল মঞ্চে শৃঙ্গারশতকগাথা। ফুল তার মধু , দিয়েছে, অবিশ্বাসে – সেই কথা লেখো। বাতাস, উদ্গ্রীব বলাকা চঞ্চুতে রেখেছে কোমল স্তন, বলেছে হে কোমলপ্রাণ, বসন্তকর্ণিক, এসো, ছিঁড়ে খাও। – এই অবিশ্বাস্য ছবিটিকে লেখো। কিছুই লিখিনা নাথ। বীরের মৃতদেহ ছিঁড়ে খাচ্ছে…

Read More

সুজিত মান্না’র কবিতাগুচ্ছ

এইসব ছায়াধ্বনি ১. স্মৃতি তো এক এঁকে রাখা পাহাড়, ঝুলিয়ে রেখেছি দেওয়ালে ঝিনুকের মতো অভিমান তোমার। তাদের গুছিয়ে নিলে নিজেকে মাংসাশী মনে হতে পারে এমনই সব অভিমান ভাঙতে ভাঙতে হেঁটে পৌঁছবো এক মুখ থুবড়ে থাকা একটি সাঁকোর পায়ের সামনে তোমার প্রশ্ন হবেঃ সাঁকোর কি তবে শেষ-শুরু আছে? ধুলো ওড়াতে ওড়াতে তোমার প্রশ্নটিকে ভেঙে ফেলবো ভুল খুঁজতে গিয়ে দেখবো, আমরা একই চাঁদের অংশমাত্র নিজেদের ক্ষত শুকিয়ে নিচ্ছি অন্যের তাপে…   ২. নির্জনতার ভেতর ঘন হয়ে নামছে একটি মস্তিস্ক প্রসূত অন্যায় অন্যায় দেখতে ঠিক সন্ত্রাসবাদের মত তাকে ইন্ধন দাও, মুখের ওপর এঁকে…

Read More

সৌমাভ’র কবিতাগুচ্ছ

আত্মহত্যা আত্মহত্যার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়, আত্মহত্যার বাড়ি উঁচু দেওয়াল বাই জিরো জিরো ঘুলঘুলিপুর রোড, আত্মহত্যা হলুদজামা পরা এক নাদুস টিকটিকি, ঘুলঘুলি থেকে রোজ মুখ বাড়ায়… তার শীতল বিস্ফারিত চোখে চোখ মেলানোর জন্য মুখ তুলতে হয় শূন্যের দিকে, আপন মনে সে আলোর ম্যাপ পয়েন্টিং করে দেওয়ালে, এই ম্যাপের ভিতরে হুট করে একেক দিন ঢুকে পড়ে আমাদের মন, মন নিয়ে টিকটিকি পাড়ি দেয় মহাকাশে, সমস্ত তারা সেদিন পরে থাকে হলুদ রঙের জামা… মাঝেমধ্যেই দরজা জানালার ফাঁকে অজান্তে আত্মহত্যাকে পিশে মেরে ফেলি … কয়েকদিন পর শুকনো আত্মহত্যা টুপ করে ঝরে পরে মাটিতে…

Read More

সজল দাসের কবিতাগুচ্ছ

জিরোপ্রপাত ১ কান্না ভাঙে না অর্থাৎ জল এক প্রকার মৌলিক দুঃখ হাসির টুকরো ও ধোয়ার শব্দ ফেরত চলে যাচ্ছে পাগলের বাড়ি কী একধরণের অচেনা গ্রাম না মাইক যে ফেটে পড়বে বাবার নামেই   ২ জলের প্রান্ত থেকে কাকে ডাকো পুকুরের মা গড়িয়ে গেলেও তাকে ভুল বলা যায়? তুমি জানো, অদ্ভুতভাবে দুজন মানুষ একই কথা ভাবতে পারে   ৩ টিপের পাতা দেখেই বুঝলাম একধরণের গাছ আর ঘাম বেয়ে সূর্যাস্তের সাপ নেমে আসছিল পিঁড়ির বিয়ের দিকে   ৪ তীব্র বেদানার গান আমি শুনেছি রক্তক্ষর স্রোত কীভাবে গাছের মধ্যে বনের মধ্যে বাকল ডুমুরের…

Read More

শম্ভু রক্ষিতের নির্বাচিত কবিতা

নির্বাচনঃ গৌতম বসু, সেলিম মল্লিক, সঙ্ঘমিত্রা হালদার, অনিমিখ পাত্র। আমাদের প্রেম আমাদের নতুন বাড়ির দিকে আসার পথে পাশাপাশি তুমি তিনটে সিনেমা হাউস দেখতে পাবে, যেখানে হিন্দী আর নোংরা ছবি সব শোতেই দেখানো হচ্ছে। সিনেমা হাউসের নামগুলোও বিশ্রী, নোংরা এবং দীর্ঘ উদীরিত। আর তারপরেই হোটেল, চায়ের দোকান, মনিহারীর দোকান ইত্যাদির ভিড়। অতঃপর মুখোশ ও পরচুলার একটা দোকান, তার পাশে পশ্চিমী মজুরদের একটা খানাঘর, পেঁয়াজিভাজার দোকান, মুদিখানা ― এসবের পাশ দিয়ে ডাকবাংলোর গেট, গেটের পাশে আবার খানকতক বিচিত্র দোকান পশরা, তারপর পেট্রল পাম্প, দুর্লভ কেবিন, সোডাওয়াটারের স্টল, এবং সেই ঘরেই মুদিখানা দোকান,…

Read More

অমিতরূপ চক্রবর্তী’র কবিতাগুচ্ছ

পিঠ এই আশ্চর্য হাওয়ার মধ্যে দূরে চলে যাওয়া আঙুল ও জাহাজের আলো ফিরে আসবে । তখন টিপটিপে বৃষ্টি শুরু হবে অনেকটা রহস্য গল্পের মতন । চাঁদ পুরোপুরি মুছে যাবার পর আকাশ অন্ধকারে গিয়ে দাঁড়াবে । একটি গাছে জোনাকির ফুল । এই আশ্চর্য হাওয়ার মধ্যে দূরে চলে যাওয়া আঙুল ও জাহাজের আলো ফিরে আসবে । তোমার শীতল পিঠ থেকে অনেকগুলি পোকা বেরিয়ে উড়ে যাবে সঙ্গীর খোঁজে আজ প্রত্যেকে অনুভব করবে উরুতে পোশাক যেন অতিরিক্ত মাত্রায় খসখস করছে । অনুভব করবে শিরদাঁড়া বরাবর যেন হেঁটে , মাংসের খোঁজে চলে যাচ্ছে কোনওকিছু ।…

Read More

রাজদীপ রায়ের কবিতাগুচ্ছ

নীরব বেহাগ১মৃত্যু নিয়ে আদিখ্যেতা করা, এসব মানুষের স্বভাবহাসিমুখে কাউকে বিদায় জানানো—তারপর তার কথা ভেবে সহজে চোখের জল ফেলা…এসব স্ববিরোধ নিয়েই তো বেঁচে থাকাজনরুচি মেনে লেখা কবিতার মতোযার কয়েক পঙক্তি পড়েই তুমিথুতু ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলে—ছ্যা ছ্যা আত্মহননের দিন শেষ হয়ে এল তাড়াতাড়িএবার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবেতার আগে প্রস্তুতির পর প্রস্তুতিদৃশ্য আবছা হয়ে আসে দূরের গেরুয়া রং দেখে ঠিকবোঝা যায় না তেমন, সূর্যোদয় না কিসূর্যাস্তের ভাষা ছড়িয়ে পড়েছে…তুমি হাঁটু মুড়ে প্রার্থনায় বোসো—জন্মদিন লুকিয়ে ফেলাসব থেকে প্রশ্নাতীত কাজ…   ২ওই পথ ছেড়ে এই পথে এসোএই পথ ছেড়ে ওই পথে চলে যাও—তেমন সমস্যা…

Read More

অরিন্দম ভূঞ্যা’র কবিতাগুচ্ছ

ঠিকানা হারিয়ে যায় এসব গলিপথ মনের মধ্যে কোথাও ছিলযখন শৈশবে বুকভর্তি শ্বাস নিতামখুলে যেত হাওয়ার এক একটি মাঠক্রমশ মাঠের ধারে ঘর বসালামঘরের ফাঁকে ফাঁকে প্যাঁচ খুলে ছড়িয়ে দিলাম শিরা ও ধমনীতার ওপর আকাশের সরু করে কাটা একফালি দিলাম সেঁটেএইভাবে আমাদের নতুন একটি ঠিকানা হলকিন্তু, ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে মানুষ এবং কুকুরেরাদূর সেই অচিন শহরে গেল হারিয়েউদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরল এদিক ওদিক,এক সন্ধ্যায়, গলির ভেতর ঠিকানা খোঁজা মানুষের সঙ্গেআশ্রয় খোঁজা একটি কুকুরের দেখা হয়ে গেল,সেই চোখ, সেই দুজনের থমকে যাওয়া,তারা কি পরস্পরকে তাড়াবে? নাকি বন্ধু হয়ে যাবে?দুজনেরই চোখ সন্ধ্যার আকাশে জ্বলছেমনে পড়ছে কতকাল…

Read More

ঋপণ আর্য’র কবিতাগুচ্ছ

শার্লক হোমস যেভাবে ওয়াটসন হয়ে ওঠে ❑– ভোগের সঙ্গে ব্যর্থতার সম্পর্ক কী হোমস? — হাহাকারের — ধর্ম তো কাউকে কোনো দিন হত্যা করেনি, হত্যাকরেছে ধার্মিক। ধর্মের ত্যাজ্যপুত্ররা। প্রথমে তারা ধর্মঅর্থাৎ পিতৃহত্যা করেই মানুষ হত্যাকে আরো সহজকরেছে, কী এক অতৃপ্ত বাসনা যেন! তাহলে কি ধর্মেইধর্মের শেষ? — ধর্মের চেয়ে ধর্ম বড় হলেই এমন হয়! আমিও তোমারমতো বুঝতে ব্যার্থ হই ওয়াটসন, ধর্মের সঙ্গে ধার্মিকেরচিরকাল এই বিশাল দূরত্ব কেন থেকে গেল! ❑ — হারানোর দিবাস্বপ্নে খামতির হয়রানি ফুরোচ্ছে কই?মাশুল গুনতে বসে তোমার সাথেও নিজেরে তোফারাক দেখিনে ওয়াটসন!কীর্তি কি আদৌ এতটা ম্লান… যেন একমাত্রঅভাবগুলোই…

Read More

জিয়া হকের কবিতাগুচ্ছ

শিশু বিভাগ ১কহতব্য নয় এ মদীয় যন্ত্রণাভালবাসা বয়ে আনে কুকুর প্রস্তাবনালেজ যেভাবে বক্র এবং যেভাবে লেজ ব্যথাস্তন্যপায়ী কুকুরশিশু জানে না কে পিতাতেমন একটা জন্তু আমার হাড়ের ভেতর জাগেআনুষ্ঠানিক পানমশালায় কান্না কান্না লাগেহৃদয় যাদের পাতার মতো শীতপ্রবাহে ভিজেনিজের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধে শয্যাগত নিজেএমন লোকই বলে, ‘বাবা, কোন জায়গায় লাগা?’অজস্র লাল জলের মধ্যে নৈর্ব্যক্তিক থাকা-আমি কেবল নানারকম নাট্য বলতে থাকিভিজে মানুষ বলেই শুধু— বুঝেছি, বাদবাকি?খবরকাগজ পড়েন যারাই ভালো থাকতে পারে?‘মাঝিসদৃশ তুমি কেন যাবে গো দরবারে?’নৌকো আমার সজনে কাঠের, সমুদ্রে তার যাওয়াছদ্ম হাওয়ার বৃদ্ধ হাওয়ার প্রাচ্যদেশী হাওয়াঅসহায়ক, পাহাড় প্রমাণ বৃষ্টিতে দেয় নুড়ি বারুইপুরের যাত্রী…

Read More

তপেশ দাশগুপ্ত’র কবিতাগুচ্ছ

শিমুল আঁকতে যাওনি পলাশের ছবি এঁকেছপলাশের চোখ নাক মুখ সঠিক বসিয়েছশিমুলের ছবি আঁকনিশিমুল অত সঠিক হয়নি কোনদিনওবীজ ফেটে উড়ে যায় লালঘাঘরা ইন্দুবালা নাম্নী মহিলাটিকে আমি পেলামগানের মধ্যেমনের মধ্যে গান হয়ে সে তার লালঘাঘরা দেখায়তাকে দেখায় না ময়ূর আমার কবিতা তু্মি ভালবাসনিআমার হাত ভালবেসেছআমার হাতের দিকে তাকিয়ে ময়ূরের খোঁজ করি ঢেউ একটা কবিতার বই দাঁড়িয়ে থাকেনিজের পায়ে আসতে বলেপড়তে পড়তে আসে যদি কেউ বসে আছি ছোটবেলার উঠোনে বসে বসেই দেবহাওয়ায় হাওয়ায় এগিয়ে আসছে গাছ ইট বের করা দেওয়ালের বাড়ি কিছুই তো ছিল নাকতদিন পর একটা পায়খানা হল বলো তোজামরুল গাছ জঙ্গল…

Read More

সুব্রত সরকারের কবিতাগুচ্ছ

মোছার দাগটুকু থেকে যাবে এসো, তোমাকে আজ একটু আদর করি, চলে যাওয়ার সময় আমি, আমার ছাইভস্মের লেখা, তোমার পিঠে পরম করে একটু হাত রাখব? ব্যথা যা দেওয়ার সে তো সাধ্যমতো যত পারো দিয়েছ, তোমার ভারি পাছায় অগণিত তারার আলো, কী অবাক করা সৌন্দর্য্য এই পৃথিবীর, এটুকু তো মিথ্যা ছিল না একেবারেই, শৃঙ্খলা সেটাই আমাকে যা বেঁধে রাখবার, রেখেছিল হাওয়ায়, বৃষ্টিতে, দিনের পতনে ও নিশার উপহাসের ভিতর, আমি তখন বলেছি— অন্যায় হচ্ছে, আমার উপর অনেক অবিচার করা হল, আজ সে কথা ভেবে উলটে মিটিমিটি হাসছি, বলি— এত কি সময় আছে পুরনো…

Read More

তিলোত্তমা বসু’র কবিতাগুচ্ছ

অক্ষয়তৃতীয়া কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা দিয়ে তাম্রপত্র সাজালাম। কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা গণেশের পায়ের কাছে রাখি তবে, আরম্ভ ! গাঙ্গেয় উপকূলে জন্ম হয়েছিল, শোক ও সন্তাপ অতিক্রম করে যাওয়াই পরিক্রমার লক্ষ্য । ভিতরের আলো কখনো কন্ঠস্বর , কখনো শ্রবণ। মাকে ডাকতে ডাকতে এই শুভারম্ভ … অন্নের অক্ষরে এখন অন্নপূর্ণার হাসি , যেন আর অভাব কোথাও নেই, ভগীরথ। ক্ষয় নেই — গঙ্গা হয়ে নেমে আসব আবার। শুধু কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা। চোখে জল। মহাকাব্যের সুদূরবিস্তারি প্রভাব ছেয়ে আছে ভূমন্ডল, আকাশের থেকে শাড়ি নেমে আসে ক্রমাগত একমনে ডাকি — বিপদভঞ্জন, লজ্জা ঢেকে দিও … পাঠকজন্ম…

Read More

শাশ্বতী সান্যালের কবিতাগুচ্ছ

নীল আর্মস্ট্রং সেই মেয়েটির নাম ১. জামাকাপড় খুলে দাঁড়ালে এখানে কেউ দেখবেনা আমায় জামাকাপড় খুলে দাঁড়ালেও এমনকি এখানে কেউ দেখবে না আমায় পাখির চোখের রঙ ততটা হলুদ নয় তার বসন্তপূর্ণিমার গান এখনো সঞ্চারীর কাছে অসম্পূর্ণ ছায়ার বিভঙ্গ নিয়ে লজ্জায় ঘাসবনে লুকিয়ে আছে চিত্রকূট হরিণের দল শরীরে পূর্ণিমা এলে তারা দল বেঁধে নদীবাঁধে জল খেতে আসবে শহর থেকে মাত্র বারোটা আলোকবর্ষ পার হয়ে এখানে এসেছি সঙ্গে যার আসার কথা ছিল, সে নেমে গেছে মাঝপথে মেয়েলি নামের একটা অজানা স্টেশনে ফলত এ নতুন মুলুকে বনজ্যোৎস্না পুরোনো হচ্ছেনা নগ্ন যুবক চাঁদ শরীরে সংকেত…

Read More

দীপ্তিপ্রকাশ দে’র কবিতা গুচ্ছ

বন্দেমাতরম্‌ কথা ছিল আজানের শব্দে ঘুম ভাঙবে অথচ উঠে বসলাম সমবেত হাম্বারবে তারপর মাংসের দাম বেড়ে গেলতারপর হাওয়া অফিসবলে বলে মিলিয়ে দিল সমস্ত পূর্বাভাস সঞ্চয়প্রকল্প চেটে বেঁচেছিল যারাতারা সব ছোট হতে হতে রক্তহীন পতাকা মাড়িয়েঅ্যামিবার দলে ভিড়ে গেল পাঁচকান করিনি তবু প্যান্টের চেন খুলে এই দ্যাখো- দ্বিধাহীন লিখে যাচ্ছি বন্দেমাতরম্‌ কুমোরটুলি প্রতিদিন খেতে বসার পর দেখি মায়ের মুখ একটু একটু করে শুকিয়ে যাচ্ছে অথচ রোদ নেই সারাদিন ব্লো-ল্যাম্পের সাদা আলোয় ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে ঠাকুরঘর তার ভেতরে গুমরে গুমরে উঠছে বাতিল যত দেবতা আর বাইরে হাসি-হাসি মুখ নিয়ে রামজন্মভূমি দৃশ্যদূষণ খইনি…

Read More

সমীরণ ঘোষের কবিতাগুচ্ছ

ভিক্ষু হয়তো বাইশজন তাদের মুছে যাওয়ার জন্য যা-যা দায়ী করে গেল তা ওই শরীরেরই বাইশ-কুঞ্জের বোবা হাওয়া পৃষ্ঠা থেকে আনুভূমিকতা সরালে সাদা সরাচর। আরও আরও ঠান্ডা কামানবাইশ ভিক্ষু আজ পুথির মাছপোকা। কিছুটা ক্ষয়াটে আর সংঘপ্রাচীন বাইশ শতাব্দীর ধস স্তূপের চূড়ায় হয়তো কখনও হাঁস বাইশ ভিক্ষুর ঘুণলাগা সমাধি কোলে শূন্যে উড়ছে বাইশ-কুঞ্জের লিপি বাইশ-সূত্রের অবসানহীন মেষ। কুয়াশাকঠিন নেমে জ্যোৎস্না ঢালে বাঘের থাবায় কাফিলা মন কাফিলা করছে। নগরীর শেষে মস্ততম হাওয়ার দোকান আঙুলের ক্ষত আজ শুকিয়ে এসেছে। হাঁটুভাঙা উটও উঠছে পাংশুটে ছুরির রেখায় বালির দেয়ালা ফুঁড়ে পুঁতে যাওয়া ক্যারাভান খেজুরপাতার শিস মন…

Read More

হাসনাত শোয়েব-এর কবিতা

সন্তান প্রসবকালীন গান এই পাহাড়ের নিচে যে দুপুর একা একা…বয়ে যাচ্ছো তুমিও। বাঁ কাঁধের ফেরেশতারা একে একে ভীড় করে এই পাহাড়ের ধারে। যারা একটু পরেই ফেটে পড়বে অট্টহাসিতে। তুমুল কোন নারীর যৌন জীবনের দিকে তুমিও ছুঁড়ে দেবে বর্শা। একটি তীর ক্রমশ ভেদ করে চলে যাচ্ছে অপার বর্ষা। এই তবে শেষ দিবসের গান? আজকের রাতটাই? তারপর কর্কটাক্রান্ত প্রতিটি ভোরের মৃত্যু হবে তোমাকে না জানিয়েই? আমি জানি, এইখানে ফলিত শরীরের নিচে বাসা বাঁধছে অবিশ্বাস। যারা প্রতিদিন একটু একটু করে জড়ো হচ্ছে। লিখছে কঠিন কোন শোকবার্তা। ভুল ঠিকানায় পোস্ট হয়ে যাওয়া সেইসব বার্তার…

Read More

এখনও মুখস্থ হয়নি তোমার স্বগত সংলাপ

১ কাকে কখন ছেড়ে আসা ভালো কোথায়- এসব প্রশ্নের ভেতর আরও লম্বা হচ্ছে তোমার শরীর শরীরের ভেতরে একটাই দরজা বারবার খুলে যায় মাঝে মাঝে দেখা যায় শ্মশানের নদী একেকদিন বাগানে জ্যোৎস্না  দরজা বন্ধ করে দিতে গিয়ে দেখেছো তুমি শরীর লম্বা হয়েছে অথচ হাতদুটো অসাড় থেকে গেছে অথচ জানো তুমি হাতের ভেতরে ক্রমাগত বড় হয়ে উঠেছে তোমার অপত্যস্নেহসমূহ… ২ একা থাকা ও নিঃসঙ্গতার মাঝখানের কিছু গান কাঠের আসবাবের মাঝে গুছিয়ে রাখা থাকে গানের শিকার প্রবণতাকে ভয় পেয়ে তুমি পাখির ছায়াটিকে রেখে দিয়েছো বন্ধ দরজার ওপারে অথচ তুমি জানো তোমার দেহের ভেতর…

Read More

কবিতাগুচ্ছ

একটি মার্জার ও ক্ষুধা ১. অবশেষে একটি মার্জার ডিঙাইয়া গেল আমার লেখা। আমার কবিতাগাড়ির কতটা বিপদ হইতে পারে তাহা দেখিবার জন্য আমিও উন্মুখ হইয়া আছি বহুকাল হইতে । একটি খতরনাক পরিবেশনার জন্য আমার মনন আমাকে বেপথে চালিত করে ।ক্রমশ একটি দুর্ঘটনার দিকে একটি ঘাট হইতে আঘাটার দিকে অচেনা তড়িৎ চুম্বকীয় বলের দ্বারা আমি পরিচালিত হইতে লাগিলাম। আমার আজীবন শব্দ সঞ্চয় নিজেরাই যুক্ত ও বিযুক্ত হইতে আরম্ভ করিলে আমার চালিকা শক্তি ক্ষীণ হইয়া আসে। অদৃষ্টের উপর ছাড়িয়া দিলেও স্টিয়ারিং কোনোক্রমে তখনো হাতে । ভাবিয়া চলিতেছি যাহা এতদিন আমার কব্জির মোচড় দিয়া…

Read More

শাশ্বতী সরকারের কবিতাগুচ্ছ

১.  আজ তুমি আমাকে কী কথা বা মনে করাবে? কোন কাজ বাকি রয়ে গ্যাছে? অন্য দেশ, অন্য নগর-গ্রাম, ভুল পিনকোড আসন্ন সমুদ্রে রাত কাটে, দিনগুলি বেলা হলে দূরে চলে যায় আরও দূরে নক্ষত্রবীথিটি, বজ্র এসে দাগ কাটল–সে দিবাবসানে তোমার পিঠের ‘পরে মনে করো নখরাভিঘাত… চিনেবাদামের খোসা উড়েছে অঢেল, নীলাভ জঙ্গল–তাকে খুঁজে নিতে গেছি তোমার কোলের কাছে পড়ে আছে হাত, ঢেউয়ে বিক্ষত সেই হাত-কে জাগাও? এখন, অন্য কোথাও যাওয়া রোদে সাঁতলানো ভাতের থালার পাশে গেরস্থ ছবিটি আমার মুখের পাশে চুল তোমার কাঁধেও গতচুম্বনের জ্বালা, দাগ আজ তুমি ফের বলো কী মনে…

Read More