পৃথিবীর শেষ লেখা

গাছেরা এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে।   চমকে যাবেন না। আপনি যদি আমার লেখার খাতাটা হাতে পেয়ে থাকেন, আমার ভাষা যদি আপনার বোধগম্য হয়, তাহলে এই লেখা একটা মর্মান্তিক ইতিহাসের বিরাট দলিল হয়ে থাকবে। গুছিয়ে রাখবেন। আপনাদের নতুন পৃথিবীতে এই লেখাটার ধর্মগ্রন্থের মতো ঘরে ঘরে বিরাজ করা উচিৎ। যাতে আপনারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। আমাদের ভুল যেন আপনাদের না হয়। আপনারা যদি গাছের বিকল্প বানিয়ে ফেলে থাকেন, তাহলেও এই দলিল আপনাদের বারংবার আত্মতুষ্টি থেকে বিরত রাখবে। আর গাছেদের যদি আপনারা আবার দমন করে ফেলতে সক্ষম হন, তাহলেও আমার লেখা অভিজ্ঞতা আপনাদের…

Read More

নিঘাত সাহিবার কবিতা

    নিঘাত সাহিবা পরিচিতিঃ  পৃথিবীর সবচেয়ে পীড়িত জায়গাগুলির অন্যতম – কাশ্মীরে জন্মগ্রহণ করে নিঘাত সাহিবা হয়ে উঠেছেন এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজের স্বর খুঁজতে থাকা মহিলাদের মূর্তকন্ঠ প্রতিনিধি। দর্শকদের শান্তি দেবে ভেবে যা সব চকচকে আর ঝকমকে জিনিষপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, নিঘাতের কবিতার ক্যানভাস সেইসবের পেছন থেকেই যাবতীয় পচা আর দূষিতকে তুলে এনে দেখিয়ে দেয়। পেশায় শিক্ষক এই কবির কাশ্মীরি কবিতার সংকলন ‘ফ্যাকাশে পাতার স্তূপ’ ( Zard Paneki Dair ) ২০১৭ সালের সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কারে সম্মানিত হয়। তিনি ২০১৪ তে উর্দু কবিতার জন্য ‘আকবর জৈনপুরী মেমরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮…

Read More

মারিয়া ভেজ্জালি’র কবিতা

ইংরাজি ভাষান্তরঃ পিনা পিক্কোলো বাংলা অনুবাদঃ অনিমিখ পাত্র কবি পরিচিতিঃ পুরস্কার বিজেতা প্রখ্যাত কবি ও অনুবাদক মারিয়া লুইসা ভেজ্জালির জন্ম ১৯৬৪ সালে, ইতালির বোলোগনা শহরে। তিনি এখানেই এক উচ্চবিদ্যালয়ে সাহিত্য পড়ান। তিনি আদ্রিয়ান রিচ এবং লোরান্ড গ্যাসপার এর ইতালীয় অনুবাদক। তিনি সেন্ট-জন পার্স এর ‘আনাবাসি’র সম্পাদিকাও। দীর্ঘ তিরিশ বছরে প্রকাশিত হয়েছে মারিয়ার অনেকগুলি কবিতার বই – :  L’altra eternità (1987), Eleusi marina (1992), dieci nell’uno (2004) lineamadre (2007, এই বইটির জন্য পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘মন্তানো পুরস্কার’), Forme implicite (2011)। এইসমস্ত কাব্যগ্রন্থে কবির নিরাভরণ কবিতাগুলি, অনেকসময়ই যা পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক বৈশিষ্ট্যে ভরা, আলোকপাত করে…

Read More

অনিমিখ পাত্রের কবিতাগুচ্ছ

কবিতা কত পাতা নড়বো হাওয়ায় কত ফল পড়ে যাবো, গায়ে লেখা থাকবে অবিমৃষ্যকারী এক পাখি বসন্তে তো অন্য পাখি ঠুকরে খায় প্রিয় মার্চ মাস হাওয়ায় গর্ত করে ঢুকে পড়ে দূরদেশে ভ্রমণের কথা বাপ রে! লাইন দেখে কেটেছি এক্কেবারে সিজন টিকিট আমি ঋতুবদলের পুরনো গ্রাহক। ফলে বাড়তি সময় পেয়ে যথাসাধ্য কবিতার চেষ্টা করে থাকি।   কাহিনি দায়সারা একটা রোদ এসে জীবনের কিছুটা দেখাল তখন তো সারা বাড়ি কী হয় কী হয় ভাবে থমথম করছে আর সেই রোদে উড়ে এসে জুড়ে বসল দু’চারটি সন্দেহের পাখি কাহিনি এবার শুরু – এরকম ঘোষণাও দিয়ে…

Read More

চাংরু হো’র কবিতা

চাংরু হো – তরুণ দ্বিভাষিক কবি ও অনুবাদক। লেখেন মাতৃভাষা চাইনিজ ও ইংরেজিতে। জন্ম চিনদেশের এর সাংহাই শহরে। বর্তমানে আমেরিকার অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এ মাস্টার্স পড়ছেন। ছদ্মনাম সিহো হো নামেই মূলত লেখা ও অনুবাদের কাজ করে থাকেন। চারটি অনুবাদের বই প্রকাশ পেয়েছে। তার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ‘পিপল সে’ এবং অন্যত্র। মূল মান্দারিন ভাষায় লেখা কবিতাগুলির ইংরাজি করেছেন কবি নিজেই। কিছু কবিতা সরাসরি ইংরাজিতে লেখা হয়েছে। সেখান থেকে বাংলায় অনূদিত হল। রচনাকালঃ ২০০৪-২০১৫।   উপহার আজকের উপহার এই গাছের চোখগুলো যা আমাকে ধীর গভীর একটা জগত এনে দেয় পার্সিমন এর…

Read More

তোমার স্বদেশে আমি গাছ রেখে দেখি

এমন একটা সময় হয়তো খুব তাড়াতাড়িই আসবে যখন নভেম্বর বলে, বস্তুত, আর কিছু থাকবে না। বর্ষার পরিবেশ সরাসরি ঝাঁপ দেবে শীতে। চিড়িয়াখানায় গিয়ে বাঘ দেখার মতোই হেমন্তকাল পড়ে থাকবে পুরনো মানুষের স্মৃতিতে, লেখাপত্রে আর বাংলা অভিধানে। যেকোনো মহার্ঘ্য জিনিসের প্রস্তুতিটি বোধহয় আরও বেশি মনোলোভা। পুজোর চারদিনের চেয়ে দীর্ঘসময় পুজো আসবার অপেক্ষাকাল যেমন। তেমনি, আমাদের এই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, রূপকথার শীতঋতু এসে পড়বার আগে প্রসাধনপর্ব হলো ওই নভেম্বর। ছোটোবেলায় পুকুর-ডোবা ও তার সংলগ্ন অঞ্চল ছিল আমার এক বড় বিনোদনের জায়গা। পুকুরের একটা আলাদা ও অদ্ভুত জীবন আছে। আমার বিশ্বাস জীবনদর্শনও আছে। আমি…

Read More