সোহম দাস

উই আর স্টিল ডেভেলপিং…

মাহেন্দ্রক্ষণ। মানে এ লেখা যখন লিখতে বসছি, ততক্ষণে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তির উন্মোচনের পর কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যে উচ্চতা, বেড়, দৈর্ঘ্য, বানানোর উপকরণ, মোট খরচ, কত সময় লেগেছে ইত্যাদির ‘ভাইট্যাল’ স্ট্যাটিস্টিক্স মিডিয়ার কল্যাণে সকলেরই জানা হয়ে গিয়েছে। আপাতত শুধু খরচটাই প্রাসঙ্গিকতার দাবী রাখে। সূক্ষ হিসাব বলছে দু’হাজার নশো ঊননব্বই কোটি টাকা, রাউন্ড ফিগারে যদি ধরি, তিন হাজার কোটি টাকা। এই টাকায় আরও কী কী হতে পারত, কটা আইআইটি বা কটা সেচ প্রকল্প সবেরই তুল্যমূল্য হিসাব তৈরি হয়ে গেছে বিশেষজ্ঞদের সৌজন্যে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার দেখিয়েছেন, এমন একটি মূর্তি তৈরি হলে ট্যুরিজমে প্রসার ঘটবে, যুক্তি দিতে স্ট্যাচু অফ লিবার্টিতে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ পর্যটক আসার তথ্যটিও তাঁরা বেশ কায়দা করে দেখাতে চেয়েছেন! যদিও ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে একাসনে বসানোর কী যুক্তি তাঁরা খুঁজে পেলেন, সেটা তাঁরাই জানেন! সে যাই হোক, এগুলো বাদ দিয়ে যেটুকু থাকে, সেটা হচ্ছে ওই ‘বিরোধীদের চক্রান্ত’ হিসাবে কিছু খেউরামি, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং, এবং তাতে কিছুই এসে যায়নি সরকারের। মূর্তির উন্মোচন হয়েছে, নিরাপত্তার ফোকর গলে একটি মাছিই গলতে পারেনি তো উদয়ন পণ্ডিতের পাঠশালার কোনও ত্যাঁদড় ছোকরা গুলতি মেরে নাক ফাটিয়ে দেওয়ার মত অডাসিটি দেখাতে যাবে কোন বুকের পাটায়! কিন্তু আশেপাশের বাইশটা গ্রামের মানুষ কেন স্বকণ্ঠে তীব্র প্রতিবাদ করলেন, সেটা একটা ভাববার বিষয় বটে! ওরা আসলে মূর্খ, নইলে কিনা ট্যুরিজমে প্রসার, জায়গাটার রেকগনিশন, এসবকে পাত্তা না দিয়ে পাহাড়, জঙ্গল, মাটি, নদী এসব প্রকৃতিপ্রেমের বুলি কপচাচ্ছেন! মহামান্য সরকার বাহাদুর, ওদের মাইনরিটি-জ্ঞানে ক্ষমাটমা করে দেবেন!

ও, আরেকটা খবর চোখে পড়ল, সেটাও বোধহয় বিরোধী চক্রান্তই হবে! উন্নয়নের স্বার্থে ব্রিটেনের কাছ থেকে এক বিলিয়ন (হাজার মিলিয়ন) ইউরো নিয়ে সেই টাকা থেকেই মূর্তি গড়া হয়েছে এবং এতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ ব্রিটেনের এমপিরা। হায় হায়, কী দিনকাল পড়ল, ব্রিটিশ বুদ্ধি এটুকু বুঝল না, যে এটাই তো ডেভেলপমেন্ট। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। আমার তেরো বছর বয়সী টিউশনি ছাত্রটি একদিন বলছে, ইন্ডিয়া কত এগোচ্ছে, কত শপিং মল তৈরি হচ্ছে, কী দারুণ! সে বেশি কিছুই দেখেনি, বুদ্ধি পরিণত নয়, সেটা যদিও অনেক প্রাপ্তবয়স্কেরও নয়! যাইহোক, একটা তেরো বছরের অপরিণত বুদ্ধির কিশোর বুঝে গেল উন্নয়নের মানে আর আপনারা বুঝলেন না, হে পৃথিবীর মানবশ্রেষ্ঠ জাতি?

উন্নয়নের কথা বললাম, হ্যাঁ তা তো হচ্ছে বৈকি। এই যেমন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যার নিরিখে যদি আমরা হিসেব করি, তবে আমরা সমগ্র বিশ্বে ২০০৯ সালে ছিলাম চতুর্থ স্থানে! ন’বছর পেরিয়েও আমরা ওই একই স্থান ধরে রেখেছি। আমাদের আগে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর জার্মানি। স্যুইৎজারল্যান্ড, ব্রিটেন, হংকং, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহীরও আগে! কোয়াইট ইম্প্রেসিভ, না? আরও আছে, ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী কোটিপতিদের তালিকায় ভারত আছে দু’নম্বরে। আহা, এসব শুনেও আরাম বুঝি! হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে কোথায় আছি ও দেখে আর কী হবে! ২০০৯-এ ১২৬ ছিল, ন’বছর পেরিয়ে আরও পাঁচধাপ অবনমন! তাতে কী বা এল গেল বলুন! এই তো আমি-আপনি দিব্যি বড়লোকের জুতো চেটে দুবেলা দুমুঠো কেন, বেশ পঞ্চব্যঞ্জন ভক্ষণ করছি তো! ২০১৬-তে ৯৭, ২০১৭-তে ১০০ আর ২০১৮-তে ১০৩, আন্তর্জাতিক ক্ষুধাসূচকে ভারতের এমন সুন্দর অ্যারিথম্যাটিক রিগ্রেশন হোক না, তাতেই বা আমার-আপনার কী এসে যায়! মহারাষ্ট্রের ওসমানাবাদে একদল লোকের তীব্র জলকষ্টে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে হাতিয়ার করে মুনাফা লুটে নিচ্ছে আরেকদল, এতে সত্যি করেই কী কিছু এসে যায়! সো, লেট’স পার্টি হার্ডার, ম্যান!

ক্ষুধা, খাদ্য, ফসল, ক্ষেতজমি। একে অপরের সাথে সমানুপাতিক। সাথে কৃষক। এখন কৃষক মানে প্রথমেই যেটা মাথায় আসে, সেটা হচ্ছে আত্মহত্যার পরিসংখ্যান। তাও পি. সাইনাথের রিপোর্ট বলছে, আত্মহত্যার ব্যাপারটা কেবলমাত্র উপসর্গ, আসল অসুখটা আরও গুরুতর! গত চার দশকে সবচেয়ে জঘন্য ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশীয় কৃষিজ ব্যবস্থা। গ্রামীণ অঞ্চলে অবাধ বাণিজ্যকরণ একপ্রকার খেয়ে নিচ্ছে কৃষিকে। এগ্রিকালচারাল ফার্মিং থেকে ক্রমশ কর্পোরেট ফার্মিং। যদিও এমন চিত্র শুধু ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বেই, মায় আমেরিকাতেও! এবং এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে ভাগচাষীরা। আর যে দেশে অসাম্যের শিকড় এত গভীরে সেখানে সবার আগে সমূহ ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষিই, এটা মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু উপায় নেই, সে যতই সরকার থেকে ‘কিষাণ অ্যাপ’ আনুক, আর যাই আনুক!

এই যে কিষাণ অ্যাপ, এই বস্তুটিই বা ঠিক কি? ডিজিটাইজেশনে আমাদের দেশের উন্নতির এক ধাপ, নাকি নিছকই ধোপদুরস্ততার আড়ালে অন্তঃসারশূন্যতা? ২০১৬ সালের এপ্রিলে কিষাণ সুবিধা, পুসা কৃষি, শেঠকারী মাসিক, ফার্ম-ও-পিডিয়া, এগ্রিমার্কেট এরকম পরপর কয়েকটা অ্যাপ লঞ্চ করা হয় এই উদ্দেশ্যে যে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাতে পারবেন, উপকার হবে কৃষির। কিন্তু আদৌ এই পদ্ধতিটা কতটা প্র্যাকটিকেবিলিটির দাবী রাখে, সেটা মনে হয় সরকারের বাহাদুরের ‘ভাবিয়া’-র সময় গণনা করা হয়নি! নিউ জার্সির এক প্রবাসী ভারতীয় সুরেশ এদিগা, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের যে অঞ্চলে কৃষক-আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি, সেই মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের কৃষকদের সাহায্যার্থে ‘i4farmers’নামে একটি নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন চালিয়ে আসছেন। ভারতীয় কৃষকদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের কার্যকারিতা একেবারে শূন্য। প্রথমত, প্রত্যন্ত গ্রামে ইন্টারনেট পরিষেবা কতটা দুর্বল সেটা সকলেরই জানা, ফলে টেকনিক্যাল ফল্ট হওয়াটা সাধারণ ব্যাপার। আর তার ফলে জরুরী তথ্য পাওয়াটাও একপ্রকার অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, নানা ভাষাভাষীর মানুষ যে দেশে বাস করেন, সেখানে এরকম একটি অ্যাপে মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট না থাকাটাও নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। তার ওপর অডিও-ভিজুয়ালের থেকে লিখিত ডকুমেন্টের পরিমাণ এতো বেশি যে স্বল্পশিক্ষিত কৃষকদের কাছে আসল বার্তাই ঠিকমত পৌঁছচ্ছে না। নেই কোনও ভয়েস-সাপোর্ট সিস্টেমও। যেকয়েকটি অ্যাপ লঞ্চ করা হয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় কিষাণ সুবিধা অ্যাপটিতে অঞ্চল-ভিত্তিক আবহাওয়ার একটি প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে বটে, কিন্তু কোন আবহাওয়ায় কোন শস্য ফলানো সুবিধাজনক বা দিনের কোন সময়ে ক্ষেতের কাজ করা উচিৎ এই জাতীয় কোনও তথ্য সেখানে নেই। পুসা কৃষিতে সেরকম জরুরী কিছুই নেই, যেকোনও সরকারি ইস্তাহারে যা তথ্য থাকে সেইসবই দেওয়া আছে। গোটা বিশ্বে গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে ভারতের স্থান যেখানে এক নম্বরে, সেখানেও এরকম দুরবস্থা হওয়ার একটাই কারণ, সুসংবদ্ধভাবে সঠিক উপায়ে জরুরী তথ্য সরবরাহ সেখানে হচ্ছে না! প্রথম একবছরের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল তিন লাখের কাছাকাছি গ্রাহক কিষাণ সুবিধা ডাউনলোড করেছেন, কিন্তু তারপর আদৌ কত সংখ্যক মানুষ এতে উপকৃত হলেন, সেই বিষয়ে কোনও সমীক্ষাই হয়নি! এদিগা স্পষ্টই বলেছেন, সরকার এসবের পেছনে যতই টাকা ঢালুক, যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে সেই উদ্দেশ্য যদি সফলভাবে সিদ্ধ না হয়, যদি কৃষকরা উপকৃতই না হন, তবে এসব পরিষেবা, সাজিয়ে রাখার পুতুলের মতই অপদার্থ।

আসলে চটকদারি, চাকচিক্যময়তা এসবের প্রতি একটা নোলা চুকচুকে স্বভাব। তাই যেটা হচ্ছে, সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত এসব ভাবার কোনও প্রয়োজনীয়তাই নেই। লালচে গ্রেভি মাখানো মাংস যদি কাঁচের প্লেটে এগিয়ে দেওয়া হয় বড় রেস্তোরাঁর টেবিলে, তবে কী আমরা আগে অনুসন্ধান করতে যাব যে আদৌ মাংসটা টাটকা না বাসি? কিন্তু এখানেও একটা ব্যাপার আছে। এই যে চাকচিক্যপূর্ণ জিনিসের প্রতি আমাদের জিভ দিয়ে লাল গড়িয়ে পড়ছে সেই চকচকে ভাবটা বজায় রাখছি কি আমরাই? না আমাদের হয়ে অন্য কেউ? স্যানিটেশন, হেলথ অ্যান্ড হাইজিন এসব কয়েকটা ভারী ইংরেজি বুলির ওপারে থাকা এক শ্রেণীর মানুষ। যেমন রমনজনাপ্পা। কর্ণাটকের পাভাগাড়া তালুকের সাফাই কর্মচারী। রাস্তা ঝাঁট দেওয়া, পাবলিক টয়লেট পরিষ্কার, কখনও-কখনও খোলা নর্দমা। তেরো হাজারের লোভ দেখিয়ে সাড়ে তিনই দেওয়া হয়, তাও ন’মাসের ওপর মাইনে পাননি ঠিকমত। ঘরে মেয়ে-বউকে কীভাবে খাওয়াবেন জানেন না। তবু কাজ করছেন, কোনোরকম প্রোটেক্টিভ গিয়ার ছাড়াই। যেকোনও সময় বিষাক্ত গ্যাসের শিকার হতে পারেন বা সংক্রামক রোগ ধরে যেতে পারে। সব জেনেও! কোয়েম্বাটোরের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মণি আজও ড্রেনের ব্লকেজ পরিষ্কার করে উঠে ভাবেন, এখনও বেঁচে আছেন কীভাবে! পৌরসভার অফিসারকে নিরাপত্তামূলক পোষাকের কথা বললে অফিসারটি উত্তর দিয়েছিল, ওসব পরলে নাকি মহাকাশচারীর মত দেখাবে। সুতরাং ওসব ছাড়াই রোজ নামতে হয় ওই নরকের মধ্যে! এতবছরের অভিজ্ঞতায় জেনে গেছেন কীভাবে বাঁচাতে হয় নিজেকে, কিন্তু এইবার এই জাতিভিত্তিক পেশার অবসান চান। এঁরা ছাড়াও রাজেশ্বর সিং। কিংবা চন্দন দলুই। ২০১৩-র ৪ই জুলাই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টসের ভেতরকার ড্রেন পরিষ্কার করার সময় বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে মারা যান রাজেশ্বর সিং, সাথে আরও দুজন, অশোক কুমার আর সতীশ সিং। একটা কেন্দ্রীয় সরকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শিক্ষা-সংস্কৃতির ফুলঝুরি ছুটে যাচ্ছে, আর তার ঠিক বাইরেই পরিবেশ-সচেতনতা বজায় রাখতে গিয়ে মরে পড়ে রইল তিনজন অবহেলিত। অশোক বা সতীশের পরিবার ঘোষিত ক্ষতিপূরণের এক পয়সাও পায়নি, রাজেশ্বরের স্ত্রী লক্ষ্মী চারবছর বাদে চারলক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। তাদের পনেরো বছরের ছেলে এখন আলুর পকোড়া আর মোমো বেচে রোজগারের রাস্তা দেখছে। ওই দিল্লিরই বসন্ত স্কোয়ারে শপিং মলে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে কোল্যাপ্স করে যান বাঙালি সাফাইকর্মী চন্দন দলুই। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে কোল্যাপ্স করে যান তাঁর সহকর্মী ইসরায়েলও। ইসরায়েলকে পরে বাঁচানো গেলেও চন্দন বাঁচেননি। চন্দনের স্ত্রী পুতুল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শুধু আমাদের জাতকেই কেন এসব কাজে নামানো হয়, ওদিকে অন্যরা দিব্যি রয়েছে যেখানে?

কীকরে বলব পুতুল আপনাকে, আমাদের উন্নয়ন চলছে!

ওই উন্নয়নেরই শিকার। আরও কিছু মানুষ। গতমাসেই সেলের ভিলাই স্টিল প্ল্যান্টে বারোজন শ্রমিকের জাস্ট পুড়ে অতীত হয়ে যাওয়া থেকে আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নয় এইসব শিল্প-কারখানা। আমাদের প্রোডাকশন চাই, অ্যাট এনি কস্ট। তাই আশেপাশের মানুষ মরে হেজে যাক, আমাদের কিচ্ছু এসে যাবে না! গত এপ্রিলে স্টারলাইট কপার স্মেল্টার বন্ধের দাবীতে উত্তাল হয়েছিল তুতিকোরিনের থুটুকুড়ি। প্রতিবাদ মিছিলে স্রেফ গুলি করে তেরোজনকে মেরে ফেলেছিল রাষ্ট্রের পুলিশ। এদিকে ওই স্মেল্টারের নামে দূষণ-সংক্রান্ত আইনভঙ্গের অভিযোগ। অদূরের গালফ অফ মান্নার বায়োডাইভার্সিটি রিজার্ভ থেকে যেখানে অন্তত পঁচিশ কিলোমিটার দূরে প্ল্যান্ট বসানোর কথা বলা হয়েছিল, সেটুকুকেও না মেনে তারা মাত্র চোদ্দ কিলোমিটার দূরেই প্ল্যান্ট বসায় এবং আশেপাশে গাছপালা লাগানোর নির্দেশটিও অম্লানবদনে অমান্য করে! কাছের সিলভারপুরম গ্রামে ঘরে ঘরে মানুষ লড়ছেন ক্যান্সার আর শ্বাসকষ্ট-জনিত অসুখের সাথে। জলে লেডের মাত্রা সেফটি লিমিটের প্রায় ৩৯ থেকে ৫৫ গুণ। তারপরেও কর্তারা বলে অবলীলায় বলে যাচ্ছিলেন, পরিবেশ-সংক্রান্ত অনুমতিপত্র আদায় করতে অসুবিধে হবে না। তা হবে না সেটা জানা কথা। ওড়িশার নিয়মগিরির এককাট্টা আন্দোলনে রুখে যাওয়া বেদান্ত আবারও দিব্যি শুরু করেছে কাজ। পরিমল ভট্টাচার্যের যা নিয়ে বলেছিলেন-“আশি কোটি মানুষের ভোটে নির্ধারিত হয় যে দেশের ভাগ্য, সেখানে আট হাজারের এক জনগোষ্ঠীর কোনো ভূমিকা নির্বাচনী পাটিগণিতে নেই। নিয়মগিরির ঝর্ণা, চৌশিঙ্গা হরিণ, দুষ্প্রাপ্য গোল্ডেন গেকো, ওষধি লতার কোনো ভোটাধিকার নেই”।

সিলভারপুরমের মতই লাটিয়াবোনি। বাঁকুড়ার গ্রাম। ঢিল-ছোঁড়া দূরত্বে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। দিনের পর দিন ফ্লাই অ্যাশ উড়ে এসে জমা হচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে। সাথে সমানে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস। ক্যান্সার, টিবি, শ্বাসকষ্ট, চামড়ায় ঘা, জ্বর এসবে একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এখানকার বাসিন্দারাও। ২০০৮-এ একবার ডিভিসির তরফ থেকে ‘পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে’ এই লোকদেখানো কাঁদুনি গেয়ে কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করার নাটক করে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে প্রকল্প। এখন উপায়ন্তর না দেখে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র যাওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা। লাক্সারির চেয়ে নেসেশিটি যে বড়!

নেসেশিটি! নাকি ডিম্যান্ড? কিসের ডিম্যান্ড? শক্তির। প্রচুর শক্তি চাই! অতএব, উত্তোলন। ম্যাগনেসিয়াম ডাইইউরেনেট। ২০৩২ সালের মধ্যে ৬৩ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তির উৎপাদন চাই-ই চাই। বিহাইন্ড দ্য কার্টেন থাকেন লক্ষ্মী দাস। তিনবার মিসক্যারেজ। পাঁচ বার প্রসব হয়েছে। কোনওবারই এক সপ্তাহের বেশি বাঁচেনি লক্ষ্মীর সন্তান। নবম সন্তান গুড়িয়া। বেঁচে গিয়েছিল যেন কীভাবে! লক্ষ্মী নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেছিলেন। তারপর ভুল ভাঙতে বেশি দেরি হয়নি। সেরিব্রাল পালসি, সারাজীবনের মত শয্যাশায়ী হয়ে যাওয়া ছোট্ট মেয়েটা। ২০১২ তে লড়াই থেমে গেছে গুড়িয়ার। লক্ষ্মী লড়ছেন কি?

জিওলজি পড়ার সুবাদে এই অঞ্চলে দুবার ফিল্ডে গেছি। তুরামডিহ, নারওয়া পাহাড়, বান্দুহুরাং মাইন্স। ইউসিআইএলের ঝাঁ চকচকে অফিস। ডকুমেন্টারির লেকচার যেখানে ঘটা করে বলা হয়, কোনও ক্ষতি না করে এখানে উত্তোলন করা হয়। আমাদের সিলেবাসে লক্ষ্মী দাস থাকে না। আমাদের সিলেবাসে একটা গোটা প্রজন্মের তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প থাকে না! মাইনিং অ্যান্ড মিলিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে রেডন গ্যাস, এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে খোলা ট্রাকে করে আকরিক নিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলো রাস্তায় এমনিভাবে পড়ে থেকেও ছড়িয়ে দিচ্ছে তেজস্ক্রিয়তা। জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু, বাড়ছে বন্ধ্যাত্বের হার, ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব তো আছেই। সত্তর শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বাষট্টির মধ্যেই। পরমায়ু বৃদ্ধির কারণে যেখানে পিলপিল করে বাড়ছে জনসংখ্যা, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র যদুগুড়ার এই আণবিক বধ্যভূমিতে! দায় কার?

অকারণই প্রশ্ন তুলছি! কেন কারও দায় থাকবে! থাকলে কী আর বিদ্যুতের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও আবারও অকারণে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বসানোর জন্য দুহাজার গ্রামীণ পরিবারকে ভিটেছাড়া করতে সামান্য বাধত না এনপিসিআইএলের? অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামের তিনটে গ্রাম-কোটাপালেম, কোভাদা আর মারুভাদার মানুষজন এখন দিন গুণছেন কবে ধরানো হবে সরকারি শমন! ভিটেমাটি, চাষের জমি, পুকুর, কলাবাগান, নারকেলবাগান-থাকবে না কিছুই! ২০১৭-র ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটাস রিপোর্ট বলছে, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মত উন্নত দেশগুলি এইধরনের নির্মীয়মাণ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিকে বন্ধ করে দিচ্ছে। এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি এখন নিউক্লিয়ার বা থার্মাল এনার্জির বদলে জোর দিচ্ছে রিনিউয়েবল সোর্সের ওপরেই। তারাও এনপিসিআইএলের এমন পদক্ষেপে অবাক। আর যেখানে রাজ্য সরকারের এনার্জি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মুখ্যসচিব অজয় জৈনের রিপোর্টই বলে দিচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রতিদিন ২০০ মিলিয়ন ইউনিট ক্ষমতা উৎপন্ন হচ্ছে, গড়ে যেখানে ১৭৮ এমইউ উৎপন্ন হয়। এত থাকা সত্ত্বেও আবারও কী প্রয়োজন ছিল প্ল্যান্ট বসানোর, এটাই হতবাক করে দিচ্ছে সকলকে! বোধহয় উন্নয়ন নিজেও! মাননীয় শশী থারুরজীর বাণীটিই বোধহয় সত্যি হতে চলেছে! “India is not, as people keep calling it, an underdeveloped country, but rather, in the context of its history and cultural heritage, a highly developed one in an advanced state of decay.”

সম্প্রতি হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে ১৫৩টি দেশের মধ্যে ভারত পেয়েছে ১১৭ নম্বর স্থান। এইচসিআই নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পরিমাপ করা হয় তিনটি প্যারামিটার-বাঁচার হার, শিক্ষার হার এবং স্বাস্থ্য। ভারতীয় প্রশাসকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ক্যাপিটাল ইনডেক্সে কেন জিডিপিকে ধরা হবে না, তাতে ভারতের স্থান আরও ঊপরের দিকে থাকত! এডুকেশন, হেলথ এসবের সাথে জিডিপি কীভাবে মেলানো যায়, তা তাঁরাই জানেন! আর জিডিপি অর্থাৎ গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্টের নানা পরিমাপ পদ্ধতি রয়েছে। নমিন্যাল জিডিপি আর নমিন্যাল জিডিপি পার ক্যাপিটা এই দুটোর মধ্যেকার পার্থক্যটুকু জানলেই বোঝা যাবে, কী ভয়ঙ্কর অসাম্য আমাদের দেশের অর্থনীতিতে। নমিন্যাল জিডিপির ক্ষেত্রে নেওয়া হয় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় মূল্য বা এক্সচেঞ্জ রেটকে। টোটাল নমিন্যাল জিডিপির ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড আর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী ভারত আছে ছ’নম্বরে, ফ্রান্সেরও ওপরে, যদিও রাষ্ট্রপুঞ্জের হিসাবে ফ্রান্স ছয়, ভারত সাত। আর এই নমিন্যাল জিডিপি পার ক্যাপিটা যদি দেখি, তবে ভারত আইএমএফের বিচারে ১৪০, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের বিচারে ১৩৮, আর ইউএনওর বিচারে ১৪৪। ফ্রান্স সেখানে এই তিনের বিচারে যথাক্রমে ২১, ২৪ এবং ২৭। আচ্ছা, নমিন্যাল জিডিপি নাহয় শুধু কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট নিয়ে হচ্ছে, সেখানে ডোমেস্টিক মার্কেটের লেনদেন সম্পর্কে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। সেইক্ষেত্রে আমরা যদি পিপিপি অর্থাৎ পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটির হিসাব দেখি, যেখানে কস্ট অফ লিভিং, ইনফ্লেশন রেট এগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও চিত্রটা একই! টোটালে ভারত এখানে আরও ভালো জায়গায়, তিনটে সংস্থার হিসাব অনুযায়ী তিনে, চীন, মার্কিন যুকরাষ্ট্র, কোথাও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরেই। কিন্তু এখানেও যেই মুহূর্তে পার ক্যাপিটার গল্প আসছে, ভারতের স্থান নামছে ১২২, ১২০ কিংবা ১২৭-এ! যারা জিডিপিকে কেন এইচসিআই নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধরা হচ্ছে না বলে গলা তুলছেন, তাঁরা বোধহয় এগুলো জানেন না! আরও একটা তথ্য জানিয়ে রাখা ভালো, সোশিও ইকোনমিক কাস্ট সেনসাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন ভারতের মোট গ্রামবাসীর মধ্যে ৩১ শতাংশ মানুষের বাস দারিদ্র্যসীমার নীচে। ২৮ কোটির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। আটবছরে মাত্র ৮০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পেরেছেন! ১৩৪ কোটির দেশে ৮০ লক্ষ মানে ০.৬ শতাংশ আর আপনারা জিডিপির পক্ষে সওয়াল করে ভারতকে উচ্চাসনে দেখতে চাইছেন! দিল্লি বহৎ দূর হ্যায়, বাবুমশাই!

যাইহোক, আমরা তো আশায় বাঁচতেই ভালোবাসি! তাই উল্টোপিঠটার দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখব, দরিদ্রের উন্নয়ন একেবারেই হচ্ছে না, একথা বলাটা পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত হবে না। সরকারি প্রকল্প বেশ কিছু রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বরাবরই। তবে এখানেও বিপরীতমুখী কিছু দিক আছে! যেমন, একটা খুব সাধারণ পন্থা হল ‘দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ’-মডেল। এক্ষেত্রে কিন্তু আমরা তাদের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথে একপ্রকার বাধা দিচ্ছি! আবার এমনও হল, কোথাও গিয়ে শহুরে মানুষ দেখল, গ্রামের রাস্তা এবড়োখেবড়ো, সেটাকে সারিয়ে পিচঢালা করে দেওয়া হল। কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যাবে, এইসব মানুষদের প্রকৃত চাহিদা হয়ত এগুলো নয়। এই উন্নয়ন-মডেলটা আমরা আর্বান পারস্পেক্টিভ থেকে ভেবে নিচ্ছি যে, ওদেরও বুঝি এটাই দরকার। কিন্তু ওদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে গেলে হয়ত দেখা যাবে প্রয়োজন অন্য কিছু। হতে পারে সেটা উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে নিজেদের কার্যকারিতাকে ঠিকমত কাজে লাগাতে না পারা। যেমন, রাঢ় অঞ্চলের গ্রামগুলিতে যেখানে জমি খুব উর্বর নয়, সেখানে বছরে মাত্রই ছ’মাস ফসল ফলাতে পারছে একজন স্থানীয় কৃষক, বাকি ছ’মাস সে রোজগারের অন্য কোনও উপায় না দেখে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে শহরে এবং শহুরে জাঁকজমকের প্রলোভনে পড়ে সমস্ত রোজগার উড়িয়ে দিচ্ছে ফুঁৎকারে। আয়লা-পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলিতে সামুদ্রিক নোনা জল বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাষের জমিতে ঢুকে এসে জমির উর্বরতা একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে। তার ফলে সেখানের কৃষকরা যারা ছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই মৎস্যজীবী হতে বাধ্য হয়েছেন, বা ভিন রাজ্যে দিনমজুরের কাজ নিয়ে চলে গেছেন! তাঁদের পরিবার থাকছে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায়। উন্নয়নটা দরকার এই জায়গায়! তাদেরকে তাদের ভালোটা বোঝানো, বাকিটা তারা নিজেরাই করতে পারবে, শুধু ওই সংযোগস্থাপনটা আমাদের করে দিতে হবে! অনুর্বর জমিতে উর্বরতা বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি নেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু সেটাও শুধুমাত্রই জমিটার উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য, তার বেশি নয়, তারা তাদের নিয়মেই কাজ করুক! আবার যেরকম বিভিন্ন সরকারি সাহায্য রয়েছে, সেগুলির সঠিক খবর তাদের কাছে পৌঁছয় না, বা সেগুলি কীভাবে পাওয়া যাবে, সেইসব সরকারি নিয়মনীতির সাথে ঠিকমত ওয়াকিবহাল নয়! সেই সাহায্যটুকুর দায়িত্ব নেওয়া! Everything can be explained to the people, on the single condition that you want them to understand.

 

পুনশ্চ: এই লেখা যখন শেষ করছি, দু’বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে ডিমনিটাইজেশনের। কালো টাকা উদ্ধার, গো ক্যাশলেসের বাজারি প্রচারের থেকে অনেক আড়ালে কিছু মৃত্যু, বিলাপ, ভয়…

 

তথ্যসূত্র:

ভট্টাচার্য, পরিমল। সত্যি রূপকথা। অবভাস, ২০১১।

2018 Global Hunger Index results.

Arora, G. “How Bengal’s Mejia power plant is wrecking the life of the people it’s supposed to benefit.” The Wire (2017).

Doraisamay, Vani. “Are Modi govt’s snazzy Kisan apps really helping the Indian farmer?” The News Minute (2017).

Fanon, Franz. The Wretched of the Earth: Grove Press (1963).

Frakes, Nicholas. “Outrage at India spending £330million on giant bronze statue as UK gave £1billion in aid.” Express (2018).

George, Visakha. “Pavagada’s social hierarchies of sorrow.” People’s Archive of Rural India (2018).

Kumar, Arun. “Two years after demonetization, the nightmare continues for India’s informal economy.” The Wire (2018).

Kumar, Brajesh. “It’s not shining in rural India: 28 crore living in deprivation.” Hindustan Times (2015).

Maganti, Rahul. “Powerless in a power-surplus state.” People’s Archive of Rural India (2018).

Maiorano, Diego. “Why the Modi govt shouldn’t be so quick to dismiss World Bank’s Human Capital Index.” The Wire (2018).

Sainath, P. “The farm crisis: why have over one lakh farmers killed themselves in the past decade?” Psainath.org (2009).

Sainath, P. “When water flows like money.” People’s Archive of Rural India (2016).

Sen, Janhavi. “India ranked 131 on Human Development Index; inequalities continue.” The Wire (2017).

Shukla, Chinky. “Jadugoda: The nuclear graveyard.” Hindustan Times.

Singh, Bhasha. “‘I have been going into this hell for decades.’” People’s Archive of Rural India (2017).

Singh, Bhasha. “‘No life should end in the gutter.’” People’s Archive of Rural India (2017).

Singh, Bhasha. “‘Swachh Bharat, and people still clean gutters?’” People’s Archive of Rural India (2018).

Stalin, J Sam Daniel. “Amid Tamil Nadu anti-Sterlite protests, a village has many homes battling cancer.” NDTV (2018).

T., Venkat, Tadepalli, Srividya & Manuel, Thomas. “The life of labour: 12 workers dead in Bhilai steel plant accident; Gujarat’s migrant exodus.” The Wire (2018).

Tharoor, Sashi. “Globalization and human imagination.” World Policy Journal, Vol. XXI (2) (2004).

The Wire Staff. “With Modi set to unveil Statue of Unity, Gujarat’s farmers, tribals plan protests.” The Wire (2018).

Trimble, Megan. “The 10 countries with the most billionaires.” US News (2018).

 

বিশেষ কৃতজ্ঞতা

অনির্বাণ ভট্টাচার্য, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ, প্রসার ভারতী

অনিকেত মিত্র, গবেষক, ভূতত্ত্ব বিভাগ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়

মনষ্ক মুখোপাধ্যায়, গবেষক, ভূতত্ত্ব বিভাগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

Facebook Comments

Related posts

One Thought to “উই আর স্টিল ডেভেলপিং…”

  1. শ্রেয়ণ

    ভালো লিখেছিস ভাই। তবে ওই লেখায় মন ভরল না। উন্নয়নের narrative-কে তুই কীভাবে epistemologically দেখিস, সেটা নিয়ে আরেকটা বিস্তারিত লিখে ফেল।

Leave a Comment